• কর্মসংস্থানে জোর, চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ল ৫ বছর
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই কর্মসংস্থানকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমে পড়ল বিজেপি সরকার। রায়দিঘিতে নির্বাচনি প্রচারে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, ‘২০১৫ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরি পাওয়ার বয়স চলে গিয়েছে।’ তাই সরকার দায়িত্ব নিয়েই প্রথম দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। অর্থাৎ, সরকারি চাকরির জন্য এবার থেকে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন জানানো যাবে। যদিও অনগ্রসর শ্রেণির জন্য এই ঊর্ধ্বসীমা ৪৮ এবং তফসিলি জাতি-উপজাতির জন্য ৫০ বছর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু কমিটমেন্ট রয়েছে। সেইসব নিয়ে আগামী সোমবার ফের ক্যাবিনেট বৈঠক বসবে।’ কী সেই কমিটমেন্ট? জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে সরকারি কর্মীদের ডিএ এবং বেতন কমিশন নিয়ে। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সোমবার আবার একটি ক্যাবিনেট মিটিং করব। সেখানে নারী সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির, সপ্তম পে-কমিশন, এরিয়ার ডিএ’র বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’ 

    বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এদিন নিয়েছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা। রাজনৈতিক হিংসার কারণে যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, এমন ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের যাবতীয় সামাজিক এবং অন্যান্য দায়-দায়িত্ব নতুন সরকার কাঁধে তুলে নিয়েছে। বড়ো সিদ্ধান্ত হয়েছে আমলাদের জন্যও। এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ন্যাশনাল ক্যাডারদের (আইএএস, আইপিএস), পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডার (ডব্লিউবিসিএস, ডব্লিউবিপিএস) কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ট্রেনিংয়ে যুক্ত হতে দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। এখন অন্যান্য রাজ্যের মতো এরাজ্যের অফিসারদেরও এই সুবিধা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দিয়েছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। এদিন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হল বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, তা এরাজ্যে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গে এদিনই জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘২০২৫ সালের ১৬ জুন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য অফিস অব রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া, মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্স চিঠি পাঠিয়েছিল। ১১ মাস অতিক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এগুলো এখনই পাবলিক ডোমেনে আনার বিষয় নয়। কিন্তু যে লিখিত তথ্য আমাদের হাতে আছে, তাতে এরা শুধুমাত্র পশ্চিমবাংলার সঙ্গে নয়, দেশের সঙ্গে, সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)