• চন্দ্রনাথ খুনে শার্প শ্যুটার সহ ধৃত ৩, ফাস্ট্যাগের সূত্রেই রহস্য ফাঁস
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফাস্ট্যাগ ও মোবাইলের সিমই ধরিয়ে দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন শার্প শ্যুটারকে। রবিবার রাতে লখনউয়ে এক বিজেপি বিধায়কের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্যুটার রাজ সিংকে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিট। ভিকি মৌর্য ও মায়াঙ্ক মিশ্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিহারের বক্সার জেলা থেকে। রাজ ও ভিকি বক্সারের গ্যাংস্টার শেরু সিংয়ের গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। জেলবন্দি শেরুই চন্দ্রনাথকে খুনের কন্ট্রাক্ট নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে আপ্ত সহায়ককে খুনের মোটিভ এখনও স্পষ্ট নয়।

    তদন্তকারীরা বুঝেছিলেন, অপরাধীরা কোনো না কোনো ভুল নিশ্চয়ই করেছে। সেটাই হবে বড় ক্লু। সেই সূত্র মিলল টোল প্লাজা থেকে। অকুস্থলে ফেলে যাওয়া নিসান গাড়িটির ফাস্ট্যাগ এবং তার সঙ্গে লিংক থাকা ইউপিআই ওয়ালেট—এই ছিল তদন্তকারীদের অস্ত্র। কোন অ্যাকাউন্ট থেকে ইউপিআই ওয়ালেটে টাকা ঢুকেছে? কে তার মালিক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নামে পুলিশ। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে দেখা যায়, সেটি বিহারের বক্সারের এক ব্যক্তির নামে নেওয়া। পৌঁছে যায় তদন্তকারী অফিসারদের টিম। দেখে, যার নামে সিম, তিনি ওই নম্বর ব্যবহারই করেন না! তাহলে কার কাছে রয়েছে সিম? বক্সারের ওই ব্যক্তির সাফ কথা ছিল, ‘আমার নথি চুরি করে সিম উঠেছে, তার অভিযোগ আমি থানায় করেছি।’ ট্র্যাক করে জানা যায়, এই নম্বর রয়েছে মায়াঙ্ক মিশ্রার কাছে। ওই ব্যক্তির নথি চুরি করে সিমটি তুলেছিল অভিযুক্ত মায়াঙ্ক। সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িতে হানা দিয়ে মায়াঙ্ককে গ্রেপ্তার করে সিট। তাকে জেরা করেই জানা যায়, টোলে ফাস্ট্যাগ পেমেন্ট নিজের ওয়ালেট থেকেই মিটিয়েছিল সে। গাড়িও চালাচ্ছিল নিজেই।

    খুনের পরিকল্পনা সবটাই জানত মায়াঙ্ক। তার চোরাই নিসান গাড়িতে উঠেছিল বক্সারের শার্প শ্যুটার ভিকি মৌর্য ও বালিয়ার নিশানাবাজ রাজ। দু’জনের মোবাইল নম্বর হাতে আসে তদন্তকারীদের। তার সূত্র ধরে বিহারে থাকা সিটের টিম গ্রেপ্তার করে ভিকিকে। খবর পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশে থাকা তদন্তকারীদের কাছেও। তাঁরা জানতে পারেন, রাজের বাড়ি বালিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকায়। সেখানে পৌঁছে যান তাঁরা। খবর মেলে, রাজ গিয়েছে লখনউতে এক বিজেপি বিধায়কের বাড়ির অনুষ্ঠানে। জোগাড় হয়ে যায় রাজের গাড়ির নম্বর। এরপরই শুরু হয় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং। উত্তরপ্রদেশের এটিএস জানায়, লখনউ থেকে বালিয়ায় ঢুকছে রাজ। গাড়ির নম্বর জানাই ছিল। বালিয়া ঢুকতেই গ্রেপ্তার করা হয় উত্তরপ্রদেশের ক্ষত্রিয় সমাজের এই নেতাকে। তার সঙ্গেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার এটিএস আটক করেছে আরও তিনজনকে। ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনের যোগ মিলেছে। 

    জেরায় রাজ পুলিশকে জানিয়েছে, সে ও ভিকি সদস্য শেরু সিংয়ের গ্যাংয়ের। শেরু জেলে বসেই সুপারি নিচ্ছে। তার সঙ্গে যোগ রয়েছে বিভিন্ন মাফিয়ার। তারা প্ল্যান কার্যকর করছে। শেরুর নির্দেশ মতোই মধ্যমগ্রামে অপারেশনে এসেছিল তারা। প্রথমেই স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে-ই বাইকের ব্যবস্থা করে এবং রাজদের এলাকা চিনিয়ে নিয়ে যায়। সন্দেহ করা হচ্ছে, নিসান গাড়িতে আনা অস্ত্র অপারেশনের পর অন্য গাড়ি বা লরিতে বিহারে পৌঁছানো হয়েছে। কিন্তু শেরুকে সুপারি কে দিয়েছিল? তদন্তে উঠে আসছে রাজ্যেরই এক মাফিয়ার নাম। কিন্তু মোটিভ কী? ডিল হয়েছিল কত টাকার? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)