• বারাকপুরে বিজেপির দখলে ১৯টি ওয়ার্ড, তৃণমূল জয়ী মাত্র পাঁচটিতে!
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: পূর্ববর্তী গত নির্বাচনগুলিতে বারাকপুর পুরসভা এলাকায় আধিপত্য বজায় রেখেছিল তৃণমূল—তা বিধানসভার ভোট হোক কিংবা লোকসভার ভোট। এবারের বিধানসভার ভোটে ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের এলাকা নিয়ে মোট ১৯টি ওয়ার্ডে জিতেছে বিজেপি। ৮ হাজারের বেশি ভোটে বারাকপুর পুরসভা এলাকা থেকে ‘লিড’ পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। পুর কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হল, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, সিপিএমের ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়া প্রভৃতি। বারাকপুরের জয়ী প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর মতে, ঘরের ছেলেকেই চেয়েছে মানুষ। তাই আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ। 

    ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, বারাকপুর পুরসভার ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল। তার মধ্যে তিনটি ওয়ার্ড সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলার চেয়ারম্যান নৌশাদ আলম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৩৭০০ ভোটে জিতেছে তৃণমূল। ফলাফল ঘোষণার পরে তাঁর বাড়ি, অফিস এবং গাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    চেয়ারম্যান উত্তম দাসের ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রভাত ঘোষের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, যুবনেতা বলে পরিচিত জয়দীপ দাসের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি অনেক ভোটে জিতেছে। চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের মধ্যে গীতালি বিশ্বাস এবং নৌশাদ আলম তাঁদের ওয়ার্ডে জয় ধরে রাখতে পেরেছেন। বারাকপুর পুরসভা এলাকাতেও গত পাঁচবছরে অনেক কাজ হয়েছে। বারাকপুর মহকুমা হাসপাতাল বলে পরিচিত বি এন বসু হাসপাতাল পরিকাঠামোর দিক থেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বারাকপুর স্টেশন চত্বর নবরূপে সেজে উঠেছে। কিন্তু গেরুয়া ঝড়ে ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে বারাকপুরে তৃণমূলের গড়! তার জন্যই অভিমানী রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যেই। 

    বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস মানুষের রায়কে মাথায় পেতে নিয়ে সমস্ত কাউন্সিলারকে নিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু জয়ী প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী তাঁদের পদত্যাগ করতে বারণ করেছেন। উত্তম দাসের বক্তব্য, গত ১৫ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবার ভোটে কাজ করেছে। ওইসঙ্গে বারাকপুরে একটা সময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল। সিপিএমের ভোট পুরো বিজেপিতে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে। সর্বোপরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গীসাথিদের জমিদারি মনোভাব মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে। আমরা খুব শীঘ্রই কাউন্সিলারদের মিটিং ডেকে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নেব। 

    অবশ্য কৌস্তভবাবু বলেছেন, ‘পুরবোর্ডকে ইস্তফা দিতে আমি বারণ করেছি। বিজেপি কোনো দখলের রাজনীতি করে না। সকলের প্রাপ্য নাগরিক পরিষেবা প্রদান তারা চালিয়ে যাক। আসলে বারাকপুরের মানুষ ঘরের ছেলেকে নির্বাচিত করেছে। আমাকে মানুষ হাতের কাছে পাবে। এখানে রাজ চক্রবর্তীর আসতে তিনঘণ্টা লাগত। তবে মানুষের রায় মেনে এবং পুরসভাকে সঙ্গে নিয়ে বারাকপুরের উন্নয়নের জন্য যা যা করার সবটাই করব আমি।’
  • Link to this news (বর্তমান)