• কেন দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে কয়লা পাচার মামলা? কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না কেন? ইডির ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের
    আনন্দবাজার | ১২ মে ২০২৬
  • কয়লা পাচার মামলায় ইডির ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলা দীর্ঘ দিন ধরে কেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে ইডি। কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলল শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘প্রায় ৬ বছর ধরে মামলাটি নিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ কোনও পদক্ষেপই হয়নি।’’

    কয়লা পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝির জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী আদালতে জানান, অনুপ দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন। পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। দেশের সম্পত্তি লুট করা হয়েছে। ব্যাপক টাকার আর্থিক প্রতারণা হয়েছে। অনেক অভিযুক্ত জড়িত রয়েছেন।

    এর পরেই শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তোলে, এত দিনেও কেন উপযুক্ত পদক্ষেপ করল না ইডি? তাদের কাছে যথেষ্ট সময় ছিল। কিন্তু এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি। ইডি চাইলে অভিযুক্তদের হেফাজতে নিতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। এত দিন পরে জামিনের বিরোধিতার কারণ কী? সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, ইডির তদন্ত খাপছাড়া ভাবে হয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হয়েছে বিষয়টি গুরুতর ভাবে দেখেনি ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর পরেই শীর্ষ আদালত ইডির কাছে পুরো বিষয়ে হলফনামা চেয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি-সহ তৃণমূলের অনেক নেতার নাম রয়েছে বলেও ইডি সূত্রে দাবি। কয়লা পাচারের তদন্তে গত বছরের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। আসানসোল, পুরুলিয়া এবং কলকাতার বেশ কয়েকটি এলাকার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদেও হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সব মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চলে। সেই অভিযানে নগদ কয়েক কোটি টাকা, সোনার গয়না এবং প্রচুর পরিমাণে বেআইনি কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে ইডি সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, কয়লা পাচার সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২০ সালে আসানসোল, দুর্গাপুর-সহ ইস্টার্ন কোলফিল্ড (ইসিএল)-এর বিভিন্ন খনি থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা তুলে বিভিন্ন জেলায় পাচার করা নিয়ে একটি মামলা হয়েছিল। তাতে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলার তদন্তেই আইপ্যাক-এর দফতরে এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।

    অবৈধ খনন এবং কয়লাচুরি সংক্রান্ত এই মামলাতেই উঠে এসেছে অনুপ মাজি ওরফে লালার নাম। ইডির দাবি, তদন্তে লালার নেতৃত্বে একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এই অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কিছু সুবিধাভোগী সংস্থা নগদ টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে খনন করা কয়লা কিনত, যার মাধ্যমে এই আয়কে বৈধ আয় হিসেবে দেখিয়ে অর্থ তছরুপ করা হত।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)