• রোনাল্ডো আসবেই, মেসিকেও ফের আনব, শুধু অরূপ বিশ্বাস যেন আর না থাকেন! বললেন শতদ্রু আনন্দবাজার ডট কম-কে
    আনন্দবাজার | ১২ মে ২০২৬
  • হোয়াট্‌সঅ্যাপ ডিপিতে তিনি নিজে মধ্যমণি। চারপাশে মারাদোনা, পেলে, রোনাল্ডিনহো-সহ ১৬ জন ফুটবল মহাতারকার কোলাজ, যাঁদের তিনি কোনও না কোনও সময়ে কলকাতায় এনেছেন। সেই কোলাজে শেষ সংযোজন লিয়োনেল মেসি।

    তিনি শতদ্রু দত্ত। যিনি বললেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে গত ডিসেম্বরে কলকাতায় ‘গোট ট্যুর’-এ এনে নিজেই (স্কেপ) গোট হয়ে গিয়েছেন। হাজতবাস হয়েছিল তাঁর। ডিসেম্বরের সেই তুমুল বিতর্ক এবং পরবর্তী পাঁচ মাসের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এ মুখ খুললেন শতদ্রু।

    প্রশ্ন: সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল? কখন মনে হয়েছিল পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে?

    শতদ্রু দত্ত: মেসিকে নিয়ে মাঠে ঢুকেই লক্ষ করলাম, সেখানে অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের থাকার কথা ছিল না। সংখ্যাটা অন্তত ১০০ থেকে ১২০ জন। তাঁদের কাছে মাঠে ঢোকার কোনও কার্ডও ছিল না। কিন্তু তাঁরা মেসিকে ঘিরে ধরে ছবি তুলতে শুরু করেন। দেখলাম, একজন মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে রদ্রিগো ডি পলকে ধাক্কা দিল। মেসি অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন। ওঁর ম্যানেজার বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, তালিকার বাইরে থাকা মানুষ কী ভাবে মাঠে ঢুকছে? আমি বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে প্রথমেই বলি, ‘‘স্যর, এঁরা এখানে কী ভাবে এলেন? এঁদের তো অনুমতিই দেওয়া হয়নি!’’ মেসির প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বিমা কভারেজ ছিল। ভাবুন, মাঠে যদি মেসির কিছু হত, সেটা জাতীয় লজ্জা হত। শেষ পর্যন্ত মেসির টিম সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর মাঠে থাকবে না। মেসি এমন দমবন্ধ করা পরিবেশ একেবারেই পছন্দ করেন না।

    প্রশ্ন: ঠিক কত জনের মাঠে ঢোকার অনুমতি ছিল?

    শতদ্রু: পুলিশের সঙ্গে ঠিক হওয়া ‘শো ফ্লো’ অনুযায়ী, মেসির কাছে থাকার অনুমতি ছিল মাত্র কয়েক জনের। করমর্দনের জন্য কিছু তরুণ ফুটবলারের থাকার কথা ছিল। পতাকা হাতে নিয়ে এবং ছোট ফুটবল অ্যাক্টিভিটি করার জন্য শিশুদের থাকার কথা ছিল। তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, আমার নিজের এবং দু’জন পিআর প্রতিনিধির থাকার কথা ছিল।

    প্রশ্ন: অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা কী ছিল?

    শতদ্রু: শো-ফ্লোর অংশ না হওয়া সত্ত্বেও ক্রীড়ামন্ত্রী সকলের আগে মাঠে ঢোকেন। তিনি ঢুকেই প্রথম যা করলেন, তা হল মেসির কাঁধ ও কোমর জড়িয়ে ছবি তোলা। এটা অত্যন্ত অনুচিত হয়েছিল। মেসির ম্যানেজার তৎক্ষণাৎ আমার কাছে এসে বললেন, ‘‘ইনি তো তালিকায় ছিলেন না। তা হলে ইনি এখানে কেন? এত মানুষ কেন এখানে?’’ ফিল্ম ফেস্টিভালে কখনও এরকম হয় যে, শাহরুখ খানের ঘাড়ে লোক উঠে পড়ছে? আসলে অরূপ বিশ্বাস ভেবেছিলেন, মেসি হল পাড়ার পল্টু। উনি তো বলেইছিলেন, ‘‘আমার কাছে মেসি হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!’’ আর অবশ্যই বলব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্যই এই বিপর্যয়।

    প্রশ্ন: অরূপ বিশ্বাস বা তাঁর ঘনিষ্ঠেরা কি ইভেন্টের সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন?

    শতদ্রু: উনি প্রথম যে কাজটা করেছিলেন তা হল, অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য আমার উপর চাপ সৃষ্টি করা। শেষপর্যন্ত আমি এগুলো দিতে অস্বীকার করি। এর পরে আমাকে বলা হয়েছিল ‘চাপ’ আছে এবং আমি যদি সহযোগিতা না করি তবে গোটা ইভেন্টটাই অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আমার টিমের যাদের উপর অ্যাক্রিডিটেশন সামলানোর দায়িত্ব ছিল, তাদের প্রায় এক ঘণ্টা একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, অতিরিক্ত কার্ডের অনুমোদন না দিলে তাদের বেরোতে দেওয়া হবে না। এই চাপ মন্ত্রীর টিম তৈরি করেছিল। আমরা ৩৯৩টা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করেছিলাম। প্রতিটা কার্ডের জ়োন বুঝে পুলিশ এবং নিরাপত্তা আধিকারিকেরা অনুমোদন দিয়েছিলেন। এমনকি, ‘প্রোমোটার’ হিসাবে আমি নিজেও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পরেছিলাম। কিন্তু যাঁরা মাঠে ঢুকেছিলেন, তাঁদের কারও কাছে কার্ড ছিল না। তা হলে পুলিশ তাঁদের কী ভাবে ঢুকতে দিল?

    প্রশ্ন: অরূপই কি শুধু দায়ী? উনি কিন্তু পদত্যাগ করেছিলেন।

    শতদ্রু: একেবারেই না! পুলিশ-প্রশাসন সমান ভাবে দায়ী। আমি বিধাননগরের সিপি-কে বার বার অনুরোধ করি, ওই লোকদের সরিয়ে দিতে। কথা কানেই তোলেন নি উনি। এটা ছিল জেড এবং জেড-প্লাস ক্যাটাগরির ইভেন্ট। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। মজার ব্যাপার হল, খোদ মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন এবং তাঁরও জেড-প্লাস নিরাপত্তা ছিল। এই জেড এবং জেড-প্লাস নিরাপত্তা কেবল প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগই কার্যকর করতে পারে। এটা পুলিশ ও প্রশাসনের সার্বিক ব্যর্থতা। আমি গত ১৫ বছর ধরে স্টেডিয়াম ইভেন্ট আয়োজন করছি, এমনটা আগে কখনও হয়নি। সাধারণত দু’-তিনটে বাড়তি ছবি তোলা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে কেউ একজন এটাকে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। ছবি তোলার জন্য আমলা, পরিবারের সদস্য এবং অন্যদের ডেকেছিলেন। ডিজি এবং সিপি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ তাঁদের থামাননি। আমি চিৎকার করে তাঁদের অনুরোধ করছিলাম মাঠ খালি করার জন্য। কিন্তু কেউ শোনেননি। স্টেডিয়ামের ভিতরে অন্তত এক হাজার পুলিশ ছিল।

    প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এত বড় ইভেন্ট করার জন্য সরকারের সঙ্গে যতটা আলোচনা করার দরকার বা সরকারকে যুক্ত করার দরকার, তা আপনি করেননি।

    শতদ্রু: একজন ইভেন্ট আয়োজক হিসেবে আমি সুরক্ষা, লাইসেন্স এবং অনুমতি সংক্রান্ত প্রতিটা ধাপ সুষ্ঠু ভাবে পেরিয়েছিলাম। পুলিশকর্তাদের সঙ্গে আমাদের অন্তত ১৫ থেকে ২০টা বৈঠক হয়েছিল। তাই আমার দিক থেকে সব এসওপি এবং প্রোটোকল মানা হয়েছিল। কিন্তু আমি তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নই। আমি ছিলাম কেবল আয়োজক। কলকাতায় ইভেন্টের চার দিন আগে আমি ব্যক্তিগত ভাবে ডিজিপি-র অফিসে বিধাননগরের সিপি এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং বুঝিয়েছিলাম এই ইভেন্টটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ওঁরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে হবে। কিন্তু যখন পরিস্থিতি খারাপ হল, তখন আমি বলির পাঁঠা হয়ে গেলাম।

    প্রশ্ন: আমরা যারা সে দিন মাঠে ছিলাম, আমাদের মনে হয়েছে, মেসিকে স্রেফ একটা হুডখোলা গাড়িতে এক পাক ঘুরিয়ে দিলেই দর্শক খুশি হয়ে যেতেন। দর্শকদের একাংশের তরফ থেকে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেটা হত না। একমত?

    শতদ্রু: ঠিক এটাই ভেবে রেখেছিলাম শুরুতে। অরূপ বিশ্বাসকে যখন এটা বলি, উনি বলেছিলেন, এটা করা যাবে না। যুবভারতীর ট্র্যাক নাকি নষ্ট হয়ে যাবে। বলেছিলেন, নীতা অম্বানিকেই এটা করতে দিইনি! তো আপনি কোন ছাড়।

    প্রশ্ন: গোলমালের খবর পেয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী চিংড়িঘাটা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গিয়েছেন বলে শোনা গিয়েছিল। উনি মাঠে এলে কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসত না? ওঁর কি আসা উচিত ছিল না?

    শতদ্রু: উনি আর পাঁচ মিনিটে মাঠে ঢুকতেন। এসে দেখতেন দেড়শো লোক মাঠে ঢুকে রয়েছে। ওঁর তো জ়েড প্লাস নিরাপত্তা। উনি এলে হয়তো পুলিশ লাঠি চালিয়ে বা যে করেই হোক লোকদের মাঠ থেকে বার করে দিত। উনি এলে কী হত, সেটা বলা মুশকিল। কিন্তু প্রশ্ন হল, মেসি কী করে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ হন?

    প্রশ্ন: আপনাকে নাটকীয় ভাবে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কী ভাবে ঘটনাটা ঘটেছিল?

    শতদ্রু: পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং মেসির ম্যানেজার আর মাঠে থাকতে রাজি না হওয়ায় আমরা চলে আসি। আমরা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছোই, তখন ডিজি সেখানে এসে বলেন যে, আমাকে ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে না। আমাকে জোর করে মুচলেকা লেখানোর চেষ্টা করা হয় যে, আমিই সম্পূর্ণ দায়ী। মেসি এবং ওঁর টিম পুলিশকে বার বার বলেছিল, ‘‘ওর দোষ কী? মন্ত্রীকে ডাকুন।’’ কিন্তু এখানকার এক জনকে বলির পাঁঠা করতে হত। ওঁরা নিজেদের বাঁচাতে চেয়েছিলেন। পুলিশও নিজেদের রক্ষা করতে চেয়েছিল। সরকারকে বাঁচাতে আমিই সেই বলির পাঁঠা হলাম।

    প্রশ্ন: মেসির সঙ্গে পরে আপনার কথা হয়েছে?

    শতদ্রু: অনেক বার কথা হয়েছে। ওঁর বাবা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা মেসির প্রথম প্রাইভেট ইভেন্ট ছিল। ওঁরা তো আমাকে এখনও বলেন, আমার যদি কোনও কাগজপত্র বা প্রমাণ লাগে, ওঁরা দিতে তৈরি। কিন্তু আমি সেটা চাই না। তাতে রাজ্যের নাম আরও ডুববে।

    প্রশ্ন: ৩৮ দিন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। সেই সময় আপনি কী ভেবেছিলেন? সরকারের তরফে কেউ যোগাযোগ করেছিল?

    শতদ্রু: কেউ যোগাযোগ করেননি। ভারতের বিচারব্যবস্থার উপর আমার সব সময় আস্থা ছিল। জামিন পাওয়ার পর আমি আমার আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ভাবে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিই। এখানে সব কিছু প্রভাব খাটিয়ে আর চাপ তৈরি করে চলে। ওঁরা আমাকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরই শেষ বিচারক। এখন আমি কথা বলার সুযোগ পেয়েছি এবং আমি থামব না। তবে আমার বার বার মনে হয়েছিল, কেন যে কলকাতায় এই ইভেন্টটা করতে গেলাম! আমি এই ইভেন্টটা অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারতাম। বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু একজন বাঙালি হিসেবে আমি চেয়েছিলাম এখানকার ফুটবল ভক্তেরা মেসিকে দেখার সুযোগ পাক। আমি কখনও ভাবিনি যে, স্রেফ নিজের প্রচারের চেষ্টা করতে গিয়ে একজন অপরিণত ব্যক্তি পুরো ইভেন্টটা ধ্বংস করে দেবেন।

    প্রশ্ন: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সে দিন ছিলেন। দুঃসময়ে ওঁর কোনও সাহায্য পেয়েছেন?

    শতদ্রু: উনিও ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। প্রশ্ন করেছিলেন, এত লোক কী করে ঢুকল? ওঁকে বলেছিলাম, দাদা একটু দেখবেন? ভাবুন, আমাকে এত বড় একটা ইভেন্টে কোন পর্যায়ে নামতে হয়েছিল। কিন্তু সৌরভ কী করবেন? এই সব ইভেন্টে এক বার পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। প্রথমে এটা ইডেনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিএবি-র নির্বাচনের জন্য সেটা সম্ভব হয়নি। ইডেনে হলে হয়তো এই ঘটনা ঘটত না। ইডেনে অরূপ বিশ্বাস ছড়ি ঘোরাতে পারতেন না। যুবভারতীকে উনি নিজের সম্পত্তি মনে করেছিলেন।

    প্রশ্ন: জামিন পেয়েছেন। তদন্তপ্রক্রিয়ায় আপনি খুশি?

    শতদ্রু: একটা বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করা হল। কিন্তু দেখলাম, তারা শুধু আমাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আমি ওঁদের বলেছি, সবকিছুই জনসমক্ষে রয়েছে এবং লাইভ টেলিকাস্ট হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীকে কেন কখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না? মাঠে ঢুকে পড়া আমলাদের কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না? তাই বলতেই হচ্ছে তদন্ত নিরপেক্ষ ছিল না। পুলিশ কী ভাবে তারই সহকর্মীদের তদন্ত করতে পারে? বিধাননগর সিপি এবং ডিজি-কে শো কজ় করা হয়েছিল, অথচ সেই সিপি নিজেই তদন্তদলে ছিলেন। নতুন সরকারকে বলব, সিআইডি-কে দিয়ে তদন্ত করানো হোক।

    প্রশ্ন: মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরুর ইভেন্ট খুব ভাল ভাবে হয়েছিল। আপনাকে ছাড়াই সেটা কী ভাবে সম্ভব হল? জেল থেকে কি আপনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন আপনার দলকে?

    শতদ্রু: ওই তিনটে জায়গায় প্রত্যেক ভিআইপি অত্যন্ত পরিণত আচরণ করেছিলেন। তাঁরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছিলেন। মুম্বই এবং দিল্লিতে সচিন তেন্ডুলকর এবং অনেক বলিউড তারকা ছিলেন। মুম্বইয়ের মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মার্জিত আচরণ করেছিলেন। দিল্লিতে জয় শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন। আমার দিদি, জামাইবাবু সামলে নিয়েছেন। আমার টিম সামলেছে। সব কিছু প্রস্তুত ছিল। শুধু এগজ়িকিউশনটা দরকার ছিল। আমার দল সেটা সফল ভাবে করেছে। কলকাতার সমস্যা ছিল আমাদের একজন অপরিণত ক্রীড়ামন্ত্রী, যিনি নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে দেদার ছবি তুলেছেন। বিষয়টাকে নিজের ব্যক্তিগত শো-তে পরিণত করেছেন।

    প্রশ্ন: এর মধ্যে দু’টি রাজ্যে বিজেপি সরকার। ঘটনাচক্রে, তারা এখন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে। তখন এই সরকার থাকলে কি এমন ঘটতে পারত?

    শতদ্রু: কী হলে কী হত বলা মুশকিল। তবে যে সরকারই থাকুক, তাকে তো একটু পরিণত হতে হবে। একটু তো বুঝতে হবে যে, মেসি কে! এটা সরকার, রাজ্যের সম্মানের ব্যাপার। শুধু তো নিরাপত্তার ব্যবস্থাটুকু করতে হত। বাকি সব দায়িত্ব তো আমারই ছিল।

    প্রশ্ন: দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেবেন?

    শতদ্রু: এটা নিয়ে কিছু বলব না। কারণ, বিষয়টা আদালতে বিচারাধীন।

    প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বিশেষ করে যখন রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে?

    শতদ্রু: আমি অবশ্যই আইনি পথ নেব। মেসি-সহ ২২ জন ফুটবল কিংবদন্তিকে ভারতে আনার পরেও আমাকে অপমানিত হতে হয়েছে। আমার আইনজীবীরা মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি আরও মামলা করব। কারণ, ভক্তেরা তাঁদের নায়ককে দেখার সুযোগ হারিয়েছেন। যাঁরা অ্যাক্রিডিটেশন বা অনুমতি ছাড়া মাঠে ঢুকেছিলেন, তাঁরা যত শক্তিশালীই হোন না কেন, আমি সকলের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি নতুন সরকার এবং আদালতের কাছে একটা নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানাব।

    প্রশ্ন: মেসিকাণ্ডের ঘটনা কি এ বারের ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলল?

    শতদ্রু: জেন জ়ি-র উপর প্রভাব তো ফেলেইছে। যাঁরা ফুটবল ভালবাসেন, তাঁদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে। এই দুই শ্রেণিকে যোগ করলে সংখ্যাটা তো কম নয়।

    প্রশ্ন: তৃণমূল সরকারে থাকলে কি মুখ খুলতেন?

    শতদ্রু: অসম্ভব! আমার তো ভয় ছিল। ওই জন্যই তো এত দিন কিছু বলতে পারিনি। ভোটের ফল বেরোতেই মুখ খুলেছি। শুভেন্দু অধিকারীর থেকে আমি বেশি ছটফট করেছি, কবে এই সরকার পড়বে।

    প্রশ্ন: বলেছিলেন, মেসির পর রোনাল্ডোকে ভারতে এনে আপনি অবসর নেবেন। কলকাতা কি রোনাল্ডোকে দেখতে পাবে?

    শতদ্রু: ১০০ শতাংশ! ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আসবেনই। তবে কলকাতা ওঁকে দেখতে পাবে কি না জানি না। কিন্তু রোনাল্ডোকে আনবই। ডিসেম্বরে নেমার আসছেন। এই রাজ্য যদি ঠিকমতো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে আনব। আমি তো ব্যবসাদার। সুযোগ পেলে আনব না কেন? শেষ করব রোনাল্ডোকে দিয়ে। আরও একটা স্বপ্ন আছে, স্টেফি গ্রাফকে আনার।

    প্রশ্ন: মেসি কি আর কোনও দিনও কলকাতায় আসবেন?

    শতদ্রু: জোরগলায় বলছি, মেসিকে আবার আনব! কলকাতায় আনতে পারব কি না জানি না। তবে ওঁকে বলব নতুন সরকার এসেছে। একটা প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছি। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। আপনি আসুন।

    প্রশ্ন: এই ধরনের ইভেন্ট করার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের থেকে আপনার কী প্রত্যাশা?

    শতদ্রু: শুধু নিরাপত্তা। আর কিছু নয়।

    প্রশ্ন: রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। আপনি খুশি?

    শতদ্রু: এটা তো সরকার এবং পার্টির ব্যাপার। এটুকু বলতে পারি, অশোক দিন্ডা হবেন বলে ভেবেছিলাম। ওঁর সঙ্গে আমার ভাল বন্ধুত্ব। হয়তো ওঁকে প্রতিমন্ত্রী করা হবে। তবে আর যিনিই হোক, কোনও অরূপ বিশ্বাস যেন আর না আসেন!
  • Link to this news (আনন্দবাজার)