• সোনা না কিনতে প্রধানমন্ত্রীর আরজি, চিন্তিত স্বর্ণশিল্পমহল
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী একবছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই আবেদন খুশি করতে পারেনি স্বর্ণশিল্প মহলকে। তাদের বক্তব্য, সোনা ব্যবসায় যে বিপুল কর্মসংস্থান হয় এদেশে, তা ধাক্কা খাবে।

    অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের বক্তব্য, স্বর্ণ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আছেন প্রায় এক কোটি মানুষ। তাঁরা আর্থিকভাবে বেকায়দায় পড়বেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান রাজেশ রোকড়ে বলেন, ক্রেতারা সোনা কিনলে সোনার চাহিদা বাড়বে। তাতে আমদানি বাড়লে বিদেশি মুদ্রা খরচ হবে। সেই খরচ আটকাতেই প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন। আমরা এই সমস্যার কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু সোনার চাহিদা আটকানো এর একমাত্র সমাধান হতে পারে না। এদেশে বিপুল পরিমাণ সোনা অকোজো হয়ে পড়ে রয়েছে, সেগুলি কাজে লাগাতে সরকারের নীতি আনা জরুরি। সরকার যদি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে গোল্ড মনিটাইজেশন পলিসি আনে, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

    পাশাপাশি তাঁর আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন সোনা কিনতে বারণ করছেন, সেখানে বাজারে তার উলটো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মানুষ আরো বেশি করে সোনা কিনতে পারেন। এর আগেও যখন সোনা কেনায় রাশ টানা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে বেশি করে সোনা কেনার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেনের কথায়, ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ২০ হাজার টন সোনা পড়ে রয়েছে, যেগুলি একেবারেই অব্যবহৃত। এই বিপুল সম্পদ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার উপায় খুঁজতে সরকার এবং স্বর্ণশিল্প মহলের একযোগে কাজ করার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী সোনা কেনা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে সোনার উপর আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। পাশাপাশি শুভঙ্করবাবু আশার কথা শুনিয়েছেন, ক্রেতাদের একটা বড়ো অংশ ইতিমধ্যেই হালকা ওজনের ও কম ক্যারেটের সোনার গয়না কেনার দিকে ঝুঁকেছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)