পর্যটকহীন নবদ্বীপ-মায়াপুর, সংকটে হোটেল ও ব্যবসায়ীরা
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! বহু প্রাচীন এই প্রবাদের মর্মার্থ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মন্দির নগরী নবদ্বীপের ছোটো-বড়ো ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ঘোরতর সঙ্কটে পড়েছেন। ভোট ঘোষণার পর থেকেই নবদ্বীপ ও মায়াপুরে পর্যটক আসার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। সারাদিন তেতেপুড়ে বসে থাকলেও ব্যবসা হচ্ছে না। তার উপর ছড়াচ্ছে উচ্ছেদের আতঙ্ক। কবে যে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরবে চৈতন্যভূমি, তার প্রহর গুনছেন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল মালিকরা।
নবদ্বীপ ও মায়াপুরের অর্থনীতি মূলত পর্যটক নির্ভর। সারা বছর দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসেন। হোটেল, লজে থাকেন। প্রচুর জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন। তাতেই সচল থাকে নবদ্বীপবাসীর রুজিরুটি। ভোট ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুণ্যার্থী ও পর্যটকের দেখা নেই। খাঁ-খাঁ করছে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুর। ফলে, পেটে টান পড়েছে ছোটোখাটো ফুটপাত ব্যবসায়ীদের। হোটেল ব্যবসাও সঙ্কটে। যাত্রী পাচ্ছেন না অটো, টোটো, রিকশচালকরা। এছাড়াও সমস্যায় পড়েছে নবদ্বীপ ও মায়াপুরের মঠ-মন্দিরগুলি।
জানা গিয়েছে, গত প্রায় আড়াই মাস ধরে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে হোটেলের বুকিং এক ধাক্কায় অনেক কমে গিয়েছে। মায়াপুর হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘ভোটপর্ব চলাকালীন পর্যটকরা আসেননি বললেই চলে। ফলে, ব্যবসা ব্যাপক মার খেয়েছে। আশাকরছি, নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। মায়াপুরের হুলোরঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী মধুসূদন সিকদার বলেন, ‘সারা বছরই নবদ্বীপ ও মায়াপুরে পুণ্যার্থী ও পর্যটকের ভিড় থাকে। মায়াপুরে প্রায় ৭০ট লজ ও হোটেল রয়েছে। ওইসব হোটেল ও লজে বহু মানুষ কাজ করেন। বর্তমানে ভোট আবহে ভয়ে লোকজন বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না। লোকজন না আসায় কর্মচারীদের বেতন দিতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুঝতে পারছি না।
বড়ালঘাটের এক টোটোচালক গণেশ দাস বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত তেমন ভাড়া মিলছে না। এখন নবদ্বীপ ও মায়াপুরে লোকজন অনেক কম আসছেন। আমরা রাজনীতি বুঝি না। ভাড়া না পেলে খাবে কি?
নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের সেবাইত সুবীর গোস্বামী বলেন, নবদ্বীপে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় দুশোর মতো মন্দির রয়েছে। বাইরে থেকে আসা ভক্তদের অনুদানের উপরেই সেবা ও পুজো নির্ভর করে। ভোট ঘোষণার পর থেকেই লোকজনের আসা অনেক কমে গিয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।