ভালো চরিত্র পেলে পারিশ্রমিক গৌণ হয়ে যায়: দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য
এই সময় | ১২ মে ২০২৬
এই প্রথম বাংলাদেশের কোনও ফিল্মে অভিনয় করেছেন দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে খল চরিত্রে। কেমন ছিল সুপারস্টারের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা? জবাবে তিনি বলছেন, ‘শাকিব খান সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। উনি অত্যন্ত প্রফেশনাল, অমায়িক এবং সব সময়ে হাসিমুখে থাকেন। কোথাও কোনও বাড়তি অহংকার বা রাশভারী ভাব নেই। ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার আগে খুব বেশি ধারণা ছিল না, তবে শাকিব খানের জনপ্রিয়তার কথা অনেকের কাছেই শুনেছি। ওঁকে বাংলাদেশের ‘মেগাস্টার’ বলা হয়। আর সেটা ওঁর ব্যবহার ও কাজের মধ্যেই স্পষ্ট বোঝা যায়। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর কাজ, সবকিছুই দারুণ উপভোগ করেছি।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘এই ধরনের ছবির একটা আলাদা স্ট্রাকচার থাকে, যেখানে খলনায়ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রটা আমার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। মাতৃভাষায় কাজ করার একটা আলাদা স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। দেশ আলাদা হলেও ভাষা তো একই। মা-বাবাও সব সময়ে বলতেন বাংলায় কাজ করতে।’
বাংলাদেশে কাজ করলেন, টলিউডে তেমন দেখা যায় না কেন আপনাকে? ‘টলিউড নিয়ে মন্তব্য করার জায়গায় আমি নেই। আমি তো প্রযোজক বা পরিচালক নই। যদি প্রযোজক হতাম, তা হলে হয়তো নিজেই একটা বাংলা ছবি বানিয়ে নিজেকে কাস্ট করতাম। বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত প্রযোজক ও পরিচালকদের। আমি ইতিমধ্যেই চার-পাঁচটি বাংলা প্রজেক্টে কাজ করেছি, আরও করতে চাই’, বক্তব্য দিব্যন্দুর। বড় প্রযোজনা সংস্থার স্পাইভার্স ‘আলফা’য় আলিয়া ভাট, শর্বরী ওয়াঘের সঙ্গে দেখা যাবে তাঁকেও। সেই চরিত্রটা কেমন? উত্তরে তিনি বলছেন, ‘‘আলফা’ নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ এখনও চুক্তির মধ্যে রয়েছি। ছবি মুক্তির পর দর্শক সব জানতে পারবেন।’
এই মুহূর্তে কোন ধরনের চরিত্র তাঁকে টানছে? অভিনেতা বলছেন, ‘আমি সব ধরনের চরিত্র করতে ভালোবাসি। সিরিয়াস, কমেডি, নেগেটিভ—সব ধরনের চরিত্রই আমাকে আকর্ষণ করে। আমি নিজেকে একজন সম্পূর্ণ পেশাদার অভিনেতা হিসেবে দেখি। তাই যে কোনও ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে আমার ভালো লাগে। সম্প্রতি আমার নতুন সিরিজ় ‘মামলা লিগ্যাল হ্যায়’ সিজ়ন ২ মুক্তি পেয়েছে। সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে আছি। চরিত্রটা নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে চাই না, কারণ স্পয়লার দেওয়া হয়ে যাবে। তবে এটা একেবারেই অন্য ধরনের একটি চরিত্র। আমি সব সময়ে চেষ্টা করি চরিত্রের মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে যেতে।’ দিব্যেন্দুর সংযোজন, ‘‘মামলা লিগ্যাল হ্যায়’–এর প্রথম সিজ়নে আমি ছিলাম না। দ্বিতীয় সিজ়নে একজন বিচারকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন চরিত্রটা কতটা আলাদা। কাজ করতে ভীষণ ভালো লেগেছে। পরিচালক রাহুল পাণ্ডে অসাধারণ কাজ করেন। পুরো টিমটাই খুব ভালো ছিল। আর রবি কিষাণ ভীষণ মজার মানুষ—ওঁর সঙ্গে কাজ করতে দারুণ লেগেছে। প্রচুর হাসিয়েছেন। খুব ভালোবাসা আর সম্মান পেয়েছি সবার কাছ থেকে।’
শেষ বাংলা ছবি দেখেছিলেন ‘অসমাপ্ত’। তার পর আর কিছু দেখেননি কেন? ‘বাংলা সিনেমা খুব বেশি দেখা হয় না, কারণ সময় কম পাই। বাড়িতে থাকলে সিনেমা দেখি। এখন হলে গিয়ে ছবি দেখাও অনেক কমে গিয়েছে। শেষ ‘অসমাপ্ত’ দেখেছি কারণ ফিল্মটায় আমি নিজেও অভিনয় করছিলাম। স্পেশ্যাল স্ক্রিনিং হয়েছিল’, বক্তব্য তাঁর। নতুন চরিত্র বেছে নেওয়ার সময়ে কোন ফ্যাক্টরটা সব থেকে বেশি কাজ করে? ‘প্রথমে গল্প দেখি, তার পর চরিত্র, কাস্ট, টিম—সবকিছু বিচার করি। পারিশ্রমিকের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, তবে সেটা তখনই বেশি গুরুত্ব পায় যখন চরিত্র বা গল্পে তেমন জোর থাকে না। যদি চরিত্র ভালো হয়, তা হলে অনেক বিষয়ই গৌণ হয়ে যায়’, বলছেন দিব্যেন্দু।