অন্য সময় প্রাইম: নায়িকা হওয়ার পরে জীবন বদলেছিল। এ বার বিধায়ক। কোনটা বেশি উপভোগ্য?
পাপিয়া: দু’টো পরিবর্তন দু’রকমের। যখন নায়িকা হিসেবে ডেবিউ করেছিলাম, প্রোডিউসররা পরীক্ষা করেছিলেন, আমি আদৌ পারব কি না। তবে এ বার দল আমাকে ভরসা করে এই জায়গাটা দিয়েছে। এই ফারাকটা সাংঘাতিক। টালিগঞ্জের মতো একটা কঠিন সিটে আমাকে লড়াই করতে পাঠানো হয়েছিল। কারণ, দলের মনে হয়েছে আমি পারব। অভিনয়ের কেরিয়ারের শুরুতে এই ভরসা আমার উপর কেউ রাখেনি। নির্বাচনের এই পরীক্ষাটা সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত ছিল। পাশ না করলে হয়তো মরে যেতাম। নায়িকা হিসেবে সফল না হলেও জীবন সংশয়ের ভয় ছিল না।
অন্য সময় প্রাইম: ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে ছিলেন, বিধায়ক হওয়ার পরে টলিউড কতটা আপন করে নিল?
পাপিয়া: (হাসি) আপন করে তো নেবেই। আমার মতো একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে আটকে রেখেছিল। সেটা ঈশ্বরও মানতে পারেননি। আমি হলাম ছাইচাপা আগুন। ছাই দিয়ে বেশি দিন আমার মতো আগুনকে আটকে রাখা যায় না। আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছি। আমার বাড়িতে থরে–থরে অ্যাওয়ার্ড সাজানো। অনেকেই বলেন, দিদি আপনাকে তো আর ছবি করতে দেখি না? আরে কী করে দেখবে! এতদিন তো আমার কাছে কোনও অফার-ই আসত না। কেউ এসে বলেনি, ‘পাপিয়াদি এই রোলটা তুমি করো’। এ বার কাজের অফার আসবে। আমার জলওয়া দেখানোর সময় এসেছে।
অন্য সময় প্রাইম: মাঝে সিরিয়ালও করেছেন, সেটা কি বাধ্য হয়েই?
পাপিয়া: মাঝে অনেক দিন সিনেমার অফার পাইনি, সেটা ঠিক। তবে কাজের কোনও ছোট-বড় ভাগ করি না। সব মাধ্যমেই কাজ করেছি। মঞ্চে কতগুলো থিয়েটারের শো করলে গিনেস বুকে নামটা ওঠে জানি না, তবে মঞ্চ আমাকে বোধহয় সবচেয়ে বেশি পেয়েছে। এত বেশি শো করেছি,পদ্মশ্রী পাওয়ার যোগ্য আমি। আমার মধ্যে একটা স্মার্টনেস রয়েছে। একটা সপ্রতিভ ব্যাপার আছে। মানুষকে বোধহয় সেটাই মুগ্ধ করে।
অন্য সময় প্রাইম: পদ্মশ্রী পাওয়ার স্বপ্নটা কি সযত্নে লালন-পালন করছেন?
পাপিয়া: কে চায় না স্বীকৃতি পেতে? আর পদ্মশ্রী তো একটা বিরাট অ্যাওয়ার্ড। আমি মারা যাওয়ার পরে আমার মেয়েরা গর্ব করে বলতে পারবে, আমাদের মা শুধু বিধায়ক ছিলেন না। পদ্মশ্রী–প্রাপক তিনি। আমি বলছি না এটা লোভ। এটা আমার অধিকার।
অন্য সময় প্রাইম: আপনার বন্ধু তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাম সকলেরই ভগবান!
পাপিয়া: (মুচকি হাসি) যদি মানসিক পরিবর্তন হয়, তা হলে তো সত্যিই ভালো। হয়তো ধীরে–ধীরে সকলে বদলে যাচ্ছেন। এর আগে তো এমন কথা ওঁদের মুখে শোনা যায়নি। তবে এখন কাউকেই দলে নেওয়া যাবে না। অনেকেই যোগ দিতে চাইছেন। তবে আমরা সকলকেই বলেছি, দু’বছর তাঁদের পরীক্ষা দিতে হবে।
অন্য সময় প্রাইম: বলেছিলেন টলিউডকে হলিউড করতে চান। সেই পরিকল্পনা কতটা এগোল?
পাপিয়া: অনেকেই আমার এই মন্তব্য নিয়ে ট্রোল করছেন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। হলিউডের টেকনিশিয়ানরা আমাদের এখানে কাজ করেন। কেন হলিউড থেকে ধার করতে হবে? আমরা নিজেরাই তো শিখে নিতে পারি। (লিওনেল) মেসিকে আনব বলাতেও ট্রোলড হতে হয়েছে। মেসিকে আমি এনেই ছাড়ব। মেসির হাতে–পায়ে ধরে বলব, আপনার জন্য একটা বড় পরিবর্তন এসে গিয়েছে।
অন্য সময় প্রাইম: কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দায়িত্ব এ বার আপনাদের। বিশেষ কোনও চমক থাকবে?
পাপিয়া: সবেতেই আমরা চমক দেব। সবাই মিলে আলোচনা করে দারুণ একটা কিছু নিশ্চয় করব। ফেস্টিভ্যালে খালি অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান-শাহরুখ খানদের আনত বিগত সরকার। আমরা ভাবতাম শিল্পপতিদের কেন আনছে না? শিল্পপতিদের তো দরকার। শিল্প নেই। যাই হোক এখনও দেরি আছে, নিজেরা একটু মিটিং করে নিই কী ভাবে সাজাব। তার পর প্রেস কনফারেন্স করে জানাব।
অন্য সময় প্রাইম: এ বার কি সিনেমায় চুটিয়ে অভিনয় করবেন?
পাপিয়া: সিনেমা যে মাঝে আমি করিনি, তা নয়। কিন্তু আমার ছবি নন্দন-সহ আরও অনেক হলে দেখানো হতো না। ফলে দর্শক সে সব জানতেও পারেননি। এ বার সেসব হবে না। এ বার দর্শক আমাকে আগের মতো পর্দায় দেখতে পাবেন।