এই সময়, উলুবেড়িয়া: আর্থিক মন্দার কারণে এমনিতেই ব্যবসায় লাভের পরিমাণ আগের থেকে অনেকে কমেছে। তার উপরে তোলাবাজদের দৌরাত্ম্যে কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছিল হাও়ডা ও উলুবেড়িয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কলকারখানার মালিকদের। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই তোলাবাজি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ায় খুশির হাওয়া জেলার শিল্পমহলে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রোমোটার, সরকারি ঠিকাদার, অটো ও টোটো চালকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে হাওড়া একাধিক শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তোলাবাজি যদি চিরতরে বন্ধ করা যায়, তা হলে হাওড়া জেলায় বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে। আগামী দিনে এই জেলায় অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই হাওড়া, উলুবেড়িয়া, বাগনান, পাঁচলা, সাঁকরাইল প্রভৃতি এলাকায় তোলাবাজি বন্ধের জন্য রাস্তায় নেমেছেন বিজেপি নেতা–কর্মীরা। কল–কারখানার মালিক এবং ব্যবসায়ীদের তাঁরা এই বলে আশ্বস্ত করছেন যে, কোনও তোলাবাজকে তাঁরা যেন টাকা না দেন। ইতিমধ্যেই একটি ভিডিয়ো (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতা–কর্মীরা বাগনানের একটি গাড়ির শোরুমে ঢুকে মালিকের কাছে জানতে চাইছেন, তাঁরা কাউকে তোলা দেন কি না। শুধু বাগনান নয়, হাওড়া জেলার সর্বত্রই এই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের। শ্যামপুরের দেওড়া–সহ একাধিক জায়গায় দখল করা দোকারঘর উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।
ভোটের ফল বেরোনোর আগে পর্যন্ত বাগনান বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার জন্য অটো চালকদের কাছ থেকে রোজ মাথাপিছু ৩৫–৩০ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। বিজেপি নেতাদের হুঙ্কারে চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাগনান স্টেশনে রোডের দোকানদাররা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে যেতেন তোলাবাজরা। তাঁদের অনেককেই তৃণমূলের মিটিং–মিছিলে দেখতে পাওয়া যেত। কিন্তু ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে থেকে তাঁদের আর এলাকায় দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে খুশি ছোট দোকানদাররা। উলুবেড়িয়া কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর রায় বলেন, ‘ কোনও একটা রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যক্তির নাম করে হাওড়া গ্রামীণ এলাকার শিল্প মালিকদের কাছ থেকে তোলা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, শিল্পের ক্ষেত্রে এই রকমের অবাঞ্ছিত ঘটনা যেন বন্ধ হয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটাতে সরকারি নিয়মকানুন শিথিল করা হোক। হাওড়া গ্রামীণের শিল্পতালুকগুলিকে আরও সম্প্রসারণ করা দরকার।’
হাওড়া জেলার একেবারে শেষপ্রান্তে অবস্থিত শ্যামপুর থানা ইট শিল্পের জন্য বিখ্যাত। শ্যামপুরে ভোটের প্রচারে শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ইটভাটা শিল্পে সমস্ত ধরনের তোলাবাজি নির্মূল করা হবে। এখানকার ইটভাটা মালিকরা জানাচ্ছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আর নতুন করে কোনও তোলাবাজির ঘটনা সামনে আসেনি। শ্যামপুর ব্রিকফিল্ড ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তন্ময় শী বলেন, ‘আশা করছি, নতুন সরকারের আমলে শিল্পের বিকাশ ঘটবে। ইট শিল্পের আধুনিকীকরণের জন্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। ইট শিল্পকে বাঁচাতে আবাসন প্রকল্পের মতো সামাজিক প্রকল্পগুলিকে চালু রাখা প্রয়োজন।’
উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার মধ্যে জগদীশপুর, কাঁটাবেড়িয়া ও সন্নিহিত এলাকার পরচুলা শিল্পের জন্য বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শেখ আক্কাশ আলি বলেন, ‘এখানকার পরচুলা সারা বিশ্বে সমাদৃত। পরচুলা শিল্পের উন্নতির জন্য সরকার এখানে একটা ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করুক। পূর্বতন সরকারের কাছে আবেদন জানানোর পরেও তারা কাজের কাজ কিছুই করেনি। আমরা আশাবাদী, নতুন সরকার নিশ্চয়ই সেই দাবি পূরণ করবে।’