• ‘২০০০ সমর্থক আক্রান্ত, ৩৬৫টি পার্টি অফিস ভাঙচুর’! হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় অভিযোগ তৃণমূলের
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের করল তৃণমূল। মঙ্গলবার দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলা করেন। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হবে।

    তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে হেরেছেন তিনি। শীর্ষণ্যের অভিযোগ, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাতেতৃণমূলের কমবেশি ২ হাজার সমর্থক আক্রান্ত হন। ভাঙচুর করা হয়েছে দলের ৩৬৫টি পার্টি অফিস। মামলাকারীর আবেদন, আদালত অবিলম্বে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক। উপযুক্ত তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ স্থাপনে আদালত আরও উদ্যোগী হোক।

    ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এবং আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আমাদের কর্মী সোমনাথ আচার্য (সপ্তগ্রাম বিধানসভা, পোলবা-দাদপুর ব্লক) এবং তপন সিকদার (চাকদহ বিধানসভা, চাকদহ ব্লক) বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন। পরে তাঁদের মৃত্যুও হয়। শোকগ্রস্ত পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন— বিজেপি-র জমানায় তৃণমূল করলে কি এ রকম নির্যাতন সহ্য করতে হবে?’

    অভিষেকের আরও অভিযোগ, ‘এই সময়ে পুলিশ নিষ্ক্রিয়, আদালত এখন নীরব দর্শক, বিজেপি নেতারা উৎসবে মত্ত, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর পরিকল্পনায় ব্যস্ত আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিখোঁজ। আর এই নীরবতার মাঝেই সাধারণ মানুষকে বিজেপির হিংসা, প্রতিহিংসা এবং চরম অরাজকতার রাজনীতির ফল ভোগ করতে হচ্ছে।’

    অভিষেকের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন শাসকদল বিজেপির মুখপাত্র বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘আমাদের দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৪ মে দুপুরের পর হঠাৎ কিছু মানুষ বিজেপি হয়ে উঠেছেন। তারাই এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরাই এক সময়ে তৃণমূলে থেকে সন্ত্রাস ছড়াত। তার পরেও আমরা বলেছি, বিজেপির সত্যিই যদি কেউ এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, দল কড়া পদক্ষেপ করবে। বিজেপি এ সব বরদাস্ত করবে না। আমাদের দল বাংলায় অন্য সংস্কৃতির জন্ম দিতে চাইছে, যেখানে হিংসা-হানাহানির কোনও জায়গা নেই।’ বিমলের সংযোজন, ‘২০২১ সালের ভোটের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল রাজ্য জুড়ে কী করেছিল, তা কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভুলে গিয়েছেন? তখন উনি কোথায় ছিলেন, যখন বিজেপি কর্মীদের নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছিল, মা-বোনেদের ধর্ষণ করা হয়েছিল?’

  • Link to this news (এই সময়)