এই সময়, কাটোয়া: সাধারণ মানুষের জমা দেওয়া সরকারি প্রকল্পের শত শত আবেদনপত্র ব্লকের দপ্তরে না-পৌঁছে ঠাঁই পেয়েছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। সরকার বদলের পরে সোমবার মঙ্গলকোটের মাজিগ্রাম তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে বস্তাবন্দি সেই সব নথি উদ্ধার হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের থেকে নথি সংগ্রহ করলেও, তৃণমূল নেতারা তা সরকারি অফিসে জমা না-দিয়ে পার্টি অফিসের কোণে ফেলে রেখেছিলেন। এমনকী, উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে বেশ কিছু কাগজ পোড়ানো অবস্থায় দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বাসিন্দারা।
মাজিগ্রামের এই পার্টি অফিসটি ২০১৩ সাল নাগাদ অনুপ চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এ দিন অনুপ নিজের জমি বুঝে নিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা সমেত একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আবেদনপত্র রয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কাটোয়ার মহকুমাশাসক অনির্বাণ বোস বলেন, 'আমি বিডিওকে এ নিয়ে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেবো।'
তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে পঞ্চায়েত কার্যালয় ঢিল ছোড়া দূরত্বে হওয়া সত্ত্বেও কেন সাধারণ মানুষের আবেদনপত্র সেখানে পড়ে রইল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় কোয়াঁরপুর গ্রামের বাসিন্দা উত্তম রায়ের অভিযোগ, 'আমরা আট জন বেকার ছেলে মিলে স্বনির্ভর গোষ্ঠী করার জন্য আবেদন করেছিলাম। নাম দিয়েছিলাম-চোখের বালি। আমাদের নেতারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছিলেন। এখন শুনছি সেই আবেদনপত্র সরকারি অফিসে জমাই পড়েনি।'
একই ভাবে আক্ষেপের সুরে মাজিগ্রামের বাসিন্দা অমিত দত্ত বলেন, 'আমার বাবা মৃত হৃদয়চাঁদ দত্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ২০২০ সালে আবেদন করেছিলেন। তৃণমূল নেতাদের কাছে বার বার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল। বাবা ২০২২-এ মারা গিয়েছেন।
আজ বাবার সেই আবেদনপত্রটি পার্টি অফিসের আবর্জনার মধ্যে দেখতে পেলাম।' বিপত্তারণ পাল, উত্তম রায় বা মহাদেব ঘোষদের গলাতেও শোনা গিয়েছে একই বঞ্চনার সুর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূলের নেতারা সাধারণ গরিব মানুষের কাছে টাকা তুলে এই সব আবেদনপত্র জমা নিয়েছিল। তারা সেগুলো সরকারি অফিসে জমা দেয়নি বলেই এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এর নিরপেক্ষ তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।'
যদিও এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের স্থানীয় বা জেলা স্তরের কোনও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ব্লক প্রশাসন। তবে চোখের সামনে নিজেদের জরুরি নথি এ ভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভআর হতাশা গ্রাস করেছে মাজিগ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের।