এই সময়, বর্ধমান: নির্বাচন এবং ভোট-পরবর্তী নানা ঘটনার ঘনঘটায় দীর্ঘ কয়েক দিন বর্ধমান পুরসভায় দেখা মেলেনি পুরপ্রধান থেকে শুরু করে অধিকাংশ কাউন্সিলারের। অবশেষে রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ মিটতেই সোমবার পুরভবনে এলেন পুরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকার। এ দিন পুরসভায় তিনি কেবল সরকারি ফাইলে সই-ই করেননি, বরং পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে থমকে থাকা নাগরিক পরিষেবা নিয়েও আলোচনা করেন।
তবে এ দিন পুরপ্রধানের ঘরে প্রবেশ করতেই এক অন্যরকম পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ল। এতদিন পুরপ্রধানের চেয়ারের ঠিক পিছনের দেওয়ালে বাঁ দিকে শোভা পেত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। সোমবার দেখা গেল সেই ছবি আর সেখানে নেই। তার বদলে পুরপ্রধানের টেবিলের সামনে সগৌরবে স্থান পেয়েছে জাতীয় পতাকা। যদিও ছবির অপসারণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি পুরপ্রধান। তাঁর সংক্ষিপ্ত দাবি, 'এই জাতীয় পতাকা অনেক আগে থেকেই এখানে ছিল।'
শহরের নাগরিক পরিষেবা, বিশেষ করে নিকাশিনালা, রাস্তা সাফাই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমেছে। এই প্রসঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়ে পুরপ্রধান বলেন, 'বর্ধমান শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডে সাফাই ঠিকমতো হচ্ছে না বলে অনেকেই জানিয়েছেন। নির্বাচন ও ফল প্রকাশ সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে এতদিন সে ভাবে নজর দিতে পারিনি। তবে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এ দিন আলোচনা হয়েছে। পুর নাগরিকরা যাতে কোনও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। অনেকেই আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।'
শহরের আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ইদানিং সরব হয়েছেন নাগরিকদের একাংশ। এমনকী বিজেপির পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরেশচন্দ্র সরকার স্পষ্ট বলেন, 'সম্মিলিত বোর্ড অফ কাউন্সিলারের বৈঠকেই এই বিষয়ে স্থায়ী ও নির্দিষ্ট ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পুরপ্রধান একা এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আমার কাছে যা অভিযোগ এসেছে এবং যে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, সেই সব বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।'
উল্লেখ্য, বর্ধমান পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭-এর মার্চ মাস পর্যন্ত। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সব কাউন্সিলার আদৌ বৈঠকে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, বর্ধমান পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সরকার ঠিক কী পদক্ষেপ করে।