রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রাতে সুজিতকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী প্রাক্তন মন্ত্রীকে ইডি হেফাজতে চেয়ে তিন কারণ দেখিয়েছেন। ইডির আবেদনের বিরোধিতা করেছেন সুজিতের আইনজীবী। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর এখনও এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত।
ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, এখনও পর্যন্ত তদন্তে যা যা উঠে এসেছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সুজিতকে তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে পাঠানো হোক। এ ছাড়াও ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন মন্ত্রী হিসাবে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন সুজিত। ইডির আশঙ্কা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টেরও চেষ্টা হতে পারে। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে ইডি।
সুজিতের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক অভিযোগ এনেছে ইডি। তাদের বক্তব্য, তৃণমূল নেতা নানা সময়ে তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। বার বার তলব করা সত্ত্বেও হাজিরা দেননি। দমদম পুরসভায় যে ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নামের সুপারিশ করা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্তত ৪০ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন সুজিত। পাশাপাশি, নিয়োগ মামলায় ধৃত অয়ন শীলের কাছে থেকে যে সব ‘তথ্যপ্রমাণ’ মিলেছে, তাতেও সুজিত-যোগের ‘প্রমাণ’ মিলেছে বলেই দাবি ইডির।
ইডির আরও দাবি, সুজিত এবং তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাবও মিলেছে। কিন্তু অন্তত ৮ কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব দেখাতে পারেননি বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই সব লেনদেনে সুজিতের পরিবারের সদস্যেরাও উপকৃত হয়েছেন।
পাল্টা সুজিতের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন করতে গিয়ে দাবি করেন, ইডি যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেপ্তার করেছে, সেই সব নথি ২০২২-২৩ সালের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে কেন এত দিন পর গ্রেপ্তার করা হলো সুজিতকে? এত দিন পর কেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে ইডি? সুজিতের আইনজীবীর দাবি, তদন্তের স্বার্থে নয়, গ্রেপ্তারির নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে। তদন্তকে প্রভাবিত করা হতে পারে বলে যে দাবি করেছে ইডি, তার প্রেক্ষিতেও পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন সুজিতের আইনজীবীর। তাঁর বক্তব্য, ২০২২ সাল থেকে মামলা চলছে। কিন্তু এত দিন তো তাঁর মক্কেল তদন্তকে প্রভাবিত করার কোনও চেষ্টা করেননি। সিবিআই চার্জশিটেও সুজিতের নাম নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।