• আদালতে সুজিতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ইডি!
    আজকাল | ১২ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারের ম্যারাথন জেরার পর পুর দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি গ্রেপ্তার করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হয়। এদিন দুপুর ১২ বেজে ৬ মিনিটে কোর্ট রুমে আনা হয় সুজিত বসুকে। ছিলেন তাঁর পুত্রও।  

    প্রাথমিক শুনানিতে কী হল?

    ইডি এর আইনজীবী: সুজিত বসুকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করছি। আমরা কেন হেফাজতে চাইছি? কারণ তাঁর কাছে অনেক কাগজ আছে। ১৫০ জন ক্যান্ডিডেটকে চাকরির দেওয়ার জন্য অয়ন শীল মূল অভিযুক্ত, এছাড়াও আরও অনেকে যুক্ত আছে। তাঁর শিক্ষক নিয়োগেও ভূমিকা রয়েছে। ডিজিটাল এভিডেন্স পাওয়া গিয়েছে। অয়ন শীলের থেকে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সুজিত বসু প্রভাবশালী নেতা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন করা হয়েছিল বারবার। তবে এড়িয়ে যান তিনি। ভোটের পর তাঁকে আস্তে বলা হয়েছিল। ১ মে আসেন। যদিও সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। ডিজিটাল রেকর্ড নষ্ট করেছে। তিনি এবং তাঁর পরিবার টাকা পেয়েছে একটি সংস্থা থেকে।

    কতটা প্রভাবশালী? অয়ন শীলের বয়ান নিতাই দত্তের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায়। সেখান থেকে দক্ষিন দমদম পুরসভার ৪০ জন এর অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার পাওয়া যায়। তিনি শুধু নয়, তাঁর পরিবারও উপভোগ করেছে ১ কোটি ৮ লক্ষ, ১ কোটি ৬ লক্ষ, ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ ৭৯,০০০ টাকা।

    বেঙ্গল ধাবা একাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হয়। ব্যাঙ্কিং লেনদেন পাওয়া যায়। লকডাউন যখন ছিল তখন তাদের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা বিক্রি হয়েছে বলে দেখান হয়। তবে তখন রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। কর্মীরা ছুটিতে ছিলেন। এটা আর্থিক তছরুপের মামলা। ১.২ কোটি টাকা ২০২০ এপ্রিলে বেঙ্গল ধাবার কেস সেল লেনদেন দেখা যায়। অথচ তখন ধাবা বন্ধ ছিল। দুটো রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। একাউন্টের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁর একাউন্টের বিপুল টাকা ঢুকছে। কিন্তু কোনও রকম বৈধ টাকা লেনদেন দেখাতে পারেনি। তারপরেও টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়াও ইডি আদালতে জানায়, ২০১৪ সাল থেকে 'এবিএস ইনফো জোন'- কে নিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছে। ১৬.৬ কোটি টাকা ছেলে মেয়েদেরকে ট্রান্সফার করেছেন। এই সংস্থার বিদেশি ট্রানজেকশন পাওয়া গিয়েছে। প্রপার কোনও লিগ্যাল লিংক পাওয়া যায়নি। নিয়োগ করে কোটি কোটি টাকা হাতানো হয়েছে। শ্রীভূমির একটি প্রজেক্ট-এর জন্য তিনটি ফ্লোর নিয়েছেন কিন্তু কোনও টাকা দেননি। আমরা গ্রেপ্তার মেমো দিয়েছি, কেস ডায়েরি আছে।

    পাল্টা কী সওয়াল সুজিত বসুর আইনজীবীর?

    একাধিক আইনজীবী রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করেন- 

    সুজিত বসুর  আইনজীবী ১: সিবিআই এর চার্জশিটে অয়ন শীলের নাম ছিল। এই মামলায় অয়ন শীল মূল অভিযুক্ত। আমার মক্কেল কীভাবে পুরসভার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত  হল? সিবিআই এর চার্জশিটে তিন জনের নাম ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ১ মে হাজিরা দিয়েছে।

    সুজিত বসুর আইনজীবী ২: আগে একটা কোনও অফেন্স হতে হবে। এই যে কেসটা শুরু হয়েছে আমরা জামিনের আবেদন করেছি। সেকশন ১৯ এ গ্রেফতার হয়েছে। 

    ফের কী বললেন ইডি-র আইনজীবী?

    ইডি-র দাবি আদালতের তত্ত্বাবধানে সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে সুজিত বসু-র আইনজীবী জানান এইভাবে করা যায় না। ধৃতের আইনজীবীর দাবি, গ্রেপ্তার হয়রানি করতে করা হয়েছে । 

    ইডি এর আইনজীবী: হেফাজতে নেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। রেডিয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ-এ ২৯ সে অক্টোবর ২০২৫ সালে তল্লাশি হয়। 

    ফের শুনানি হবে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইয়ের পর।
  • Link to this news (আজকাল)