তপসিয়ায় বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫
আজ তক | ১২ মে ২০২৬
তপসিয়ার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার দুপুরে জিজে খান রোডের একটি পাঁচতলা আবাসনের দোতলায় প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া গোটা বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর(প্রতিবেদন লেখার সময়)। আরও পাঁচ জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণ উদ্ধারকাজ চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের ওই বহুতলের দোতলা থেকে প্রথম ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা তলায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিল্ডিংয়ের একাংশ। আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, আগুনের তীব্রতার কারণে অনেকে সময়মতো বাইরে বের হতে পারেননি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পৌনে ২টো নাগাদ দমকলে খবর দেওয়া হয়। একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয় দমকলকর্মীদের।
দমকল সূত্রে খবর, পাঁচ থেকে ছ’জন ওই সময়ে ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর তাঁদের উদ্ধার করে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরও তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। কয়েক জনের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছে বলেও খবর।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বহু মানুষ রাস্তায় ভিড় জমান। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিল্ডিংয়ে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রাথমিক ভাবে আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ছড়িয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে দমকলের বক্তব্য, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পরেই তদন্ত শুরু করা হবে। বিল্ডিংয়ের ভিতরে কী পরিস্থিতি ছিল এবং কোনও নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে দমকল।
এর আগেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির নজির রয়েছে। ফলে তপসিয়ার এই ঘটনায় আবারও বহুতলের অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।