কলকাতায় সরকারি জমি ও ফুটপাতে অবৈধ বিজ্ঞাপন ব্যবসা, ৩০ অবৈধ হোর্ডিং চিহ্নিত
আজ তক | ১২ মে ২০২৬
কলকাতা শহরে বেআইনি বিজ্ঞাপন কাঠামোর বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুরসভা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অবৈধ হোর্ডিং ও বিজ্ঞাপন কাঠামো চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এর পিছনে কয়েকটি প্রভাবশালী বিজ্ঞাপন সংস্থা জড়িত রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে শহরে বিজ্ঞাপন ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বাঘাযতীনের একটি মন্দিরের গায়ে অবৈধভাবে একটি বড় বিজ্ঞাপন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেটিকে ইতিমধ্যেই বেআইনি ঘোষণা করে নোটিস দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গড়িয়ার একটি খোলা মাঠে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিজ্ঞাপনের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানেও পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস ঝোলানো হয়েছে।
মোটামুটি ৩০টি বেআইনি বিজ্ঞাপন কাঠামো ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি কাঠামোয় নোটিস জারি হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, এই কাজের সঙ্গে পাঁচ থেকে ছ’টি বড় বিজ্ঞাপন সংস্থা যুক্ত রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কাঠামো তৈরি করে বিপুল অর্থ আয় করেছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর হচ্ছে এই কারণে যে, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদতে এই ধরনের কাঠামো গড়ে উঠেছে বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। ফলে এতদিন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সাধারণভাবে বিজ্ঞাপন কাঠামো ব্যক্তিগত জমিতে নিয়ম মেনে তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সরকারি জমি, ফুটপাত বা ফাঁকা জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে হোর্ডিং তৈরি করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় করে কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যা নিয়ম লঙ্ঘন।
উদাহরণ হিসেবে পার্ক সার্কাস ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন একটি বড় বিজ্ঞাপন কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত জমিতে হলেও অতিরিক্ত আকারের কারণে ব্রিজের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই ধরনের কাঠামোতেও ইতিমধ্যেই নোটিস দেওয়া হয়েছে।
পুরসভা জানিয়েছে, বেআইনি কাঠামোগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে সামান্য নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, সেখানে জরিমানা আদায় করে কাঠামো নিয়মের মধ্যে আনা হবে। তবে যেসব কাঠামো সম্পূর্ণ বেআইনি, সেগুলি সরাসরি ভেঙে ফেলা হবে বলে জানানো হয়েছে।