দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে সরব অভিষেক, ‘এটা ভোট পরবর্তী হিংসা নয়’, পালটা বিজেপির
প্রতিদিন | ১২ মে ২০২৬
বঙ্গে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে দলের দুই কর্মীর। যদিও এহেন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই জানিয়েছে শাসকদল বিজেপি।
অভিষেকের দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসায় সপ্তগ্রামের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন সিকদারের মৃত্যু হয়। মৃত দু’জনেই দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিষেক জানিয়েছেন, শোকস্তব্ধ শহিদ পরিবারগুলির বর্তমানে একটাই প্রশ্ন, বিজেপির বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করা কি হিংসা ও মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানোর সমান? পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, দলের সমর্থক ও নেতাদের উপর হামলায় রাজ্য পুলিশ, আদালত, বিজেপি নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কার্যত নীরব। তবে অভিষেকের এহেন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল। বিজেপি হুগলি সংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপির লোকজন মারতে যাবে কেন? বিজেপির লোকজন ও সব করে না। বিজেপি কর্মীরা এসব করে থাকলে প্রমাণ দিক। বিজেপি হিংসার রাজনীতি করে না।’’ তাঁর আরও দাবি, এটা কোনও ভোট পরবর্তী হিংসা নয়।
উল্লেখ্য, নদিয়া জেলার চাকদহ থানার সিলিন্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাই স্কুল পাড়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। মৃত ব্যক্তির নাম তপন সিকদার। পরিবারের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস করার জন্যই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় গোবিন্দ দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সপ্তগ্রামে সোমনাথ আচার্যর মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তিনিও তৃণমূল সমর্থক ছিলেন বলে দাবি দলের নেতাদের।
বলে রাখা ভালো, ভোটের ফলপ্রকাশের পর বঙ্গে বিজেপি জিততেই শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর কোনও হিংসা হয়নি। ২০২১ এবং ২০২৩-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে এবার নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি। তবে ৪ মে’র পর একাধিক বিজেপি নেতার খুনের ঘটনাও সামনে এসেছে।