বাংলায় বিধানসভা ভোটে পর্যুদস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিপুল জনসমর্থন পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। গেরুয়া আবির উড়েছে পাহাড় থেকে সাগরে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পালাবদলের ঘটনা ফুটে উঠেছে শাড়িতেও। নদিয়ার রানাঘাটে (Ranaghat) তৈরি হয়েছে ‘পরিবর্তনের শাড়ি’। তাঁতের শাড়ির ভিতর লেখা ‘ঘাসফুল ঝরেছে, পদ্মফুল ফুটেছে’। শিল্পী বিজন বিশ্বাসের কথায়, “শাড়ির মধ্য দিয়েই আমি আমার মনের কথা তুলে ধরছি।”
নদিয়ার তাঁত শিল্পের সুনাম একসময় ছিল গোটা দেশ-সহ বিদেশেও। রানাঘাট, শান্তিপুর, ফুলিয়ার তাঁতিদের শাড়ি দূরদূরান্তে যেত। এখন সেসব কার্যত অতীত। তৃণমূল সরকার এই শিল্পের উন্নতিতে তেমন কোনও কাজ করেনি বলে অভিযোগ শিল্পীদের। তাঁতশিল্পের সুনাম ফিরিয়ে আনতে বিজেপি বদ্ধপরিকর। রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার নতুন শাড়ি তৈরি শুরু হল। রানাঘাটের হবিবপুরের তাঁতশিল্পী বিজন বিশ্বাস এই তাঁতের শাড়ি তৈরি করছেন। সাদা জমিনের উপর গেরুয়া দিয়ে লেখা, শাড়ির পাড়ও গেরুয়া রঙের। এই শাড়ি এলাকায় চমকও ছড়িয়েছে। শুরু হয়েছে চর্চা।
এই শাড়িতে লেখা আছে, ‘ঘাসফুল ঝরেছে, পদ্মফুল ফুটেছে’। শাড়ির আঁচল জুড়ে লেখা আছে ‘জয় শ্রীরাম’। পদ্ম প্রতীকও রয়েছে শাড়িতে। দামও সাধারণের সাধ্যের মধ্যে। জনস্বার্থেই এই শাড়ির দাম রাখা হয়েছে ২৩০ টাকা। তবে রাজনৈতিক বার্তা লেখা শাড়ি এই প্রথম নয়, আগেও তিনি তৈরি করেছেন। ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’, ‘জয় শ্রীরাম’, কিংবা পদ্ম প্রতীক আঁকা শাড়ি তৈরি করে বাজারে সাড়া ফেলেছিলেন তিনি বিজন বিশ্বাস। ইতিমধ্যেই এই শাড়ি ইতিমধ্যেই নদিয়া ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি শিল্পীর। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ যেমন এই শাড়িকে রাজনৈতিক আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, তেমনই অনেকে এটিকে প্রতিবাদের ভাষাও মনে করছেন।
বিজনবাবুর কথায়, “শিল্পই আমার প্রতিবাদের ভাষা। মানুষের চাকরি গিয়েছে, সংসার ভেঙেছে। তাই শাড়ির মধ্য দিয়েই আমি আমার মনের কথা তুলে ধরছি।” তিনি আরও জানান, বিজেপির জয়লাভের পর তাঁর আশা, ‘সোনার বাংলা’ গড়ে উঠবে এবং বাংলার তাঁতশিল্প নতুন করে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পাবে। তাঁতিদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সরকারি সহায়তা মিললে বাংলার এই ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।