• মাওবাদী দমনে লালবাজারের জোড়া সাফল্য, আত্মসমর্পণ মাধাইয়ের, পাকড়াও শ্রদ্ধা
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • রাজ্যে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার একই দিনে একদিকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন বর্ষীয়ান মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। অন্য দিকে, এসটিএফের জালে ধরা পড়লেন ঝাড়খণ্ডের দুর্ধর্ষ মাও নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা।

    দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে থাকার পরে অবশেষে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। হুগলির জঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই ২০০৭ সালে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা বনাঞ্চলে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    মাধাইয়ের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে মাওবাদী পার্টির আদর্শ ও রীতিনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, ‘সমাজ অনেক বদলে গিয়েছে, সেই সব বিবেচনা করেই আমি মূল স্রোতে ফিরতে চেয়েছি।’ তিনি তাঁর সকল কমরেডদেরও সমাজের মূল স্রোতে এসেই মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নীতি অনুযায়ী মাধাইয়ের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে।

    এ দিনই লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) উত্তর কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে। তিনি মাওবাদীদের ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল।

    পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, শ্রদ্ধা দীর্ঘকাল নদিয়ার চাকদহ এলাকায় পরিচয় গোপন করে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। ২০০৫-০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল এবং তিনি মেদিনীপুরে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে পুনরায় নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত শ্রদ্ধা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি বিশেষ দল কলকাতায় আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রদ্ধার গ্রেপ্তারি এবং মাধাইয়ের আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে মাওবাদী নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে দেবে। এই জোড়া সাফল্যকে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতার এক বড় জয় হিসেবে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

    তবে এই ঘটনায় আরও একটা বিষয় পরিষ্কার, ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর পরেও কিছু এলাকায় মাওবাদীরা রয়েই গিয়েছেন। সবাইকে ‘নির্মূল’ করা যায়নি। মাধাই পাত্রই যেমন জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে আত্মসমর্পণের অনুমতি দিয়েছেন তাঁর ইনচার্জ। কিন্তু সেই ইনচার্জ নিজে, এই পথ অনুসরণে রাজি নন।

  • Link to this news (এই সময়)