• চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে CBI, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল, কে দিয়েছিল কোটি টাকার ‘সুপারি’?
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যমগ্রামের সেই অকুস্থলে পৌঁছন CBI-এর আধিকারিকরা, যেখানে গত ৬ মে গাড়ি আটকে নৃশংস ভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছিল চন্দ্রনাথকে। তদন্তে গতি আনতে এ দিন কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে ছিল কলকাতার সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা CFSL-এর তিন সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল।

    মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাটি এখনও পুলিশি ঘেরাটোপে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে পুলিশের সেই বাধা পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। CBI-এর সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT), যার নেতৃত্বে রয়েছেন DIG পঙ্কজ কুমার সিং, এ দিন দীর্ঘক্ষণ এলাকাটি পরিদর্শন করেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নতুন করে রক্তের নমুনা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

    তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের পরিকল্পনা অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে করা হয়েছিল এবং বিপুল অর্থ খরচ করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, যে-ই এই খুনের ‘সুপারি’ দিয়ে থাক, তার ১ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটির বাজারমূল্য ১০ লক্ষ টাকার বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া শার্প শুটার ভাড়া করা, রেইকি করা এবং পালানোর জন্য ব্যবহৃত বাইক ও গাড়ির বন্দোবস্ত— সব মিলিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কে বা কারা বিনিয়োগ করল, তা-ই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ।

    ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে বালিয়ার বাসিন্দা রাজ সিং ওরফে চন্দন সিং একজন পেশাদার শার্প শুটার বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। এ ছাড়া বিহারের বক্সার থেকে মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকে পাকড়াও করা হয়েছে। একটি টোল প্লাজায় UPI লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ এদের হদিস পেয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই অপরাধে ৮ থেকে ৯ জন জড়িত ছিল। তবে ধৃতরা এখনও মুখ খোলেনি। মধ্যমগ্রাম থেকে পালানোর পথে স্থানীয় কেউ তাদের সাহায্য করেছিল কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)