• হেলতে-দুলতে আসার দিন শেষ! এই দপ্তরের কর্মীদের অফিসে ঢোকা-বেরোনোর সময় বেঁধে দিল রাজ্য
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • ‘১২টায় অফিস আসি, ২টোয় টিফিন, ৩টেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রিন...’। সরকারি কর্মচারীদের একটা অংশকে নিয়ে নচিকেতার এই গান এক সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে সুখের সেই দিন ফুরোতে চলেছে। হেলতে দুলতে আর ১২টায় অফিস ঢুকলে চলবে না। পালাবদলের পরে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের বিচার বিভাগের সমস্ত কর্মীদের অফিসে ঢোকা এবং বেরনোর সময় বেঁধে দিল নতুন রাজ্য সরকার। যদিও এই সময় আগেও ছিল। তবে নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ায় এ বার কড়াকড়ি করা হবে বলেই সূত্রের খবর। ধীরে ধীরে অন্য দপ্তরেও এই নিয়ম চালু হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

    মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংসে থাকা বিচার বিভাগের সমস্ত কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘সবাইকে সকাল ১০টা ১৫-এর মধ্যে অফিসে আসতে হবে। বিকেল ৫টা ১৫-র আগে অফিস থেকে বেরোনো যাবে না।’ সরকারের যাবতীয় কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্যই এই নির্দেশ বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    অফিসে উপস্থিতির নির্দিষ্ট সময় থাকলেও তা নিয়ে এতদিন কড়াকড়ি ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর অভিযোগও জমা পড়েছিল বিভিন্ন দপ্তরে। অনেকের দাবি, কর্মীরা যে যখন খুশি অফিসে ঢোকেন, ইচ্ছে মতো বেরিয়েও যান। এই অভিযোগ নতুন নয়। একাংশের এমন আচরণে বদনাম হন সকলেই।

    রাজ্য সরকারের একটি সূত্রের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম রুখতেই এ বার কড়াকড়ি চালু হতে চলেছে। আপাতত বিচার বিভাগ দিয়েই তা শুরু হলো। ধীরে ধীরে অন্য দপ্তরেও এই নিয়ম লাগু হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে ‘আমি নয়, আমরা’-র বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন সরকারি দপ্তরগুলিতে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই আসল চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই এ বার কাজ শুরু হলো বলে মনে করছেন অনেকে।

  • Link to this news (এই সময়)