অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক এবং মনোনীত ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগ বা কর্মজীবনের মেয়াদ সম্প্রসারণ (এক্সটেনশন) বাতিলের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সদ্য নির্বাচিত রাজ্য সরকার। যে সমস্ত আধিকারিক ও মনোনীত ব্যক্তি ৬০ বছর হওয়ার পরেও বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, স্বশাসিত সংস্থা অথবা সরকারি ক্ষেত্রে ডিরেক্টর এবং চেয়ারম্যান পদে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই নির্দেশ এই নির্দেশিকার পরেই মঙ্গলবার সেই সব মনোনীত এবং পুনর্নিয়োগ হওয়া আধিকারিকের তালিকা প্রকাশ করা হলো।
নবান্নের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের ওই নির্দেশিকায় মোট ২৪৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের কেউ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, কেউ অর্থ দপ্তর, কেউ আবার স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পরিবহণ, নগরোন্নয়ন-সহ প্রায় সব দপ্তরেই এই ধরনের আধিকারিকেরা কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন— কল্লোল গনাই (স্বরাষ্ট্র), সমরেন্দ্রনাথ বেরা (অর্থ), বাস্তব বৈদ্য (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর), তরুণকান্তি দাস (জনস্বাস্থ্য কারিগরি), মৌসুমি গুহ রায় দাস (শক্তি দপ্তর), অভিজিৎ রায় (ভূমি ও ভূমি সংস্কার), অতনু বন্দ্যোপাধ্যায় (স্বরাষ্ট্র)। তাঁদের সকলকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরের খবর, শুধুমাত্র আগের শাসকদলের ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার সুবাদেই তাঁরা অবসরের পরেও দায়িত্বে থেকে গিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই গত মঙ্গলবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, পূর্বতন সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ’ বেশ কিছু আমলাকে অবসরের নির্ধারিত বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পুনর্নিয়োগ বা চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাতে ইতি টেনে দিলেন।