ক্ষমতায় এসেই বিরোধী দল ভাঙানো শুরু, বিজয়কে সমর্থন ঘোষণা জয়ললিতার দলের একাংশের
প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
ক্ষমতায় এসেছিলেন রাজনীতিতে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আশ্বাস দিয়েছিলেন দিনবদলের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীরের চেয়ারে বসেই থলপতি বিজয় আর পাঁচজন সাধারণ রাজনীতিবিদের মতো কাজ করা শুরু করে দিলেন। ক্ষমতার জাদুদণ্ড হাতে পেতেই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরালেন টিভিকে প্রধান। যা পরিস্থিতি তাতে তামিলনাড়ুতে আড়াআড়ি ভাঙতে চলেছে জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে। দলের প্রধান ই পালানিস্বামীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন এআইএডিএমকের বেশিরভাগ বিধায়ক।
২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদু সংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কয়েকদিন আগেই কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সমর্থন করে টিভিকে-কে। শুধু তা-ই নয়, দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে ভিসিকে, মুসলিগ লিগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। সব মিলিয়ে বিজয়ের হাতে এই মুহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেটা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।
কিন্তু সরকার চালাতে সম্ভবত খুব বেশি বেগ পেতে হবে না থলপতিকে। কারণ সূত্রের খবর, জয়ললিতার দল এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। এমনকী দলের প্রধান পালানিস্বামী যদি বিজয়কে সমর্থনে রাজি না হন, তাহলে তাঁরা সদলবলে পালানিস্বামীকে ছেড়ে নিজেরাই জয়ললিতার দলের মালিকানা দাবি করতে পারেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ৩ বারের রাজ্যসভার সাংসদ সি ভি সন্মুগামগ এবং এস পি ভেলুমানি। তাঁদের দাবি, দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে। তবে তাঁরা দল ভাঙাতে চান না। দলের প্রধান পালানিস্বামীর উচিত বিধায়কদের দাবি মেনে বিজয়কে সমর্থন করা। ইতিমধ্যেই ওই বিদ্রোহী বিধায়করা পালানিস্বামীর বদলে এস পি ভেলুমানিকে এআইএডিএমকের বিধানসভার দলনেতা হিসাবে দাবি করেছেন। ফলে যা পরিস্থিতি তাতে জয়ললিতার দলে ভাঙন অবশ্যম্ভাবী।
এমনিতেই জয়ললিতার মৃত্যুর পর বহুবিভক্ত হয়েছে AIADMK। কখনও দিনাকরণ, কখনও পনিরসেলভম, কখনও শশিকলা। পরপর ভাঙনে দুর্বল হয়েছে তামিল রাজনীতির অন্যতম প্রধান পক্ষ। এবার আরও একটি ভাঙন পালানিস্বামীরা সইতে পারবেন কিনা সেটাই বড় প্রশ্ম।