টানা জেরা প্রয়োজন, প্রভাবশালী তত্ত্বেই ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে সুজিত, নির্দেশ আদালতের
প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
ইডি হেফাজতেই থাকতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। আদালত এদিন এই নির্দেশ দিয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সুজিতকে জেরা করা হয়। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি, তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন ইডি আধিকারিকরা। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে রেখে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করবেন ইডি আধিকারিকরা। গতকাল, সোমবার রাতে ম্যারাথন জেরার পরে সুজিতকে গ্রেপ্তার করে ইডি। আজ, তাঁকে বেলায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির স্ক্যানারে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। গতকাল, সোমবার ম্যারাথন জেরার পর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার সকালে তাঁকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে শারীরিক পরীক্ষার পর সুজিতকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। বেলায় তাঁকে আদালতে তোলা হয়। তাঁকে ইডি হেফাজতে রেখে জেরা করা হবে। সেই ইঙ্গিত গতকাল রাতেই পাওয়া গিয়েছিল। সুজিতকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরার আবেদন আদালতে জানান ইডি আধিকারিকরা।
আদালতে সওয়াল-পালটা সওয়াল চলে। এরপর বিচারক সুজিতকে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ১০ দিন সিজিও কমপ্লেক্সই তাঁর ঠিকানা বলে খবর। এদিন আদালতে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে ইডি। তদন্তে অসহযোগিতার পাশাপাশি তাঁদের তরফে দাবি করা হয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছে থেকে যেসব ডিজিটাল তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা অনুযায়ী সুজিত বোস একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন। উঠে এসেছে নিতাই দত্তের নামও। সুজিত বোস এবং পরিবারের ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাব পেয়েছে ইডি। সুজিত বসুর একটি রেস্তরাঁ রয়েছে। যা করোনাকালে বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও আয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা!
ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে জানান, “সুজিত প্রভাবশালী ছিলেন। এখন উনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেও পারেন। তাই তাঁকে হেফাজাতে চায় ইডি।” এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ২০২২-২৩-২৪ সালের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে টাকা লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। যার কোনও আইনগত কারণ দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। সেই কথাও আদালতে দাবি করেছেন ইডির আইনজীবী।