তিলজলার চামড়ার কারখানায় ভয়াবহে অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম ৩ জন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাতে এই নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘বেআইনি কারখানা, এসব চলবে না।’ সঙ্গে আশ্বাসের সুরে ‘এটাই শেষ’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকার বাংলায় কোনও বেআইনি কারখানা থাকতে দেবে না ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘বেআইনি কারখানা। এসব হবে না, চলবে না।’ আগামী কাল বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে মুখ্যসচিব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিপোর্ট দেবেন। এই কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মুখ্যসচিব কমিটি তৈরি করেছেন। সকাল ১১টায় রিপোর্ট দেবে। এফআইআর হবে।’
এর পরেই শুভেন্দু সরাসরি বলেন, ‘এটাই শেষ ধরে নিন। এই ধরনের কাজ করতে দেব না।’ তাঁর সাফ কথা, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে মানুষ দেখে। অপরাধীদের লুকোনোর জন্য নয়।’
তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে এ দিন সন্ধ্যায় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে যান পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। সেখানেও মুখ্যমন্ত্রীর সুরে কারখানাগুলিকে বেআইনি বলে তোপ দাগেন তিনিও। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘ফায়ার লাইসেন্স নেই, ট্রেড লাইসেন্স নেই। আমি বলে দিয়েছি, এই ধরনের যত কারখানা, অফিস আছে, নোটিস পাঠান, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ হাসপাতাল কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আহতদের যাতে ভালো ভাবে চিকিৎসা হয়, সেই বার্তাও দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলজলার ওই আবাসনে চামড়ার কারখানা ছিল। এ দিন দুপুরে তারই দোতলায় আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে দমকল। পাঁচ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে মহম্মদ হাসানুজ্জামান ও রাজেত আলি মণ্ডল নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।