এই সময়: নতুন সরকারের পাঁচ মন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন হয়েছিল সোমবার। দায়িত্ব নিয়েই নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা মঙ্গলবার ঘোষণা করে দিলেন, পূর্ববর্তী জমানার মতো এই সরকার কোনও এক জনের ইচ্ছেয় চলবে না। এই সরকার পরিচালিত হবে কেবলমাত্র জনহিতকর কাজের জন্য এবং যে কোনও দুর্নীতি বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে জ়িরো টলারেন্স নীতিতে।
এ দিন নিজের দপ্তরে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া আশ্বাস দিয়েছেন, রেশন-দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছবে নতুন সরকার। যাঁরা এই দুর্নীতিতে জড়িত, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ঠান্ডা ঘরে বসে দপ্তর চালাবেন না তিনি। নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বার্তা, মহিলাদের উপরে নির্যাতনে জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে সরকার। আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর জাতি কল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হুঁশিয়ারি, ভুয়ো জাতি সংশাপত্র নিয়ে যাঁরা সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁদের সেই সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে।
মঙ্গলবার পঞ্চায়েত দপ্তরে যান নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দপ্তরে অফিসার এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মী নেই। দীর্ঘদিন কোনও নিয়োগ হয়নি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, ‘দপ্তরে এলাম। কর্মীদের সঙ্গে কথা বললাম। কী ভাবে কাজ চলছে, কী কী সমস্যা রয়েছে, কী কী করতে হবে, সবটা শুনলাম। পুরো বিষয়টা বুঝে নিতে একটু সময় লাগবে। তারপরে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হয়ে যাবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘দপ্তরে বসার অভ্যেস আমার নেই। আমি ফিল্ডে যাব। আমি বাস্তবে অনেক কিছু দেখেছি, এ বার থিওরেটিক্যালি দেখলাম। পঞ্চায়েতে কী কী হয়, কেমন নাটক হয় তা জানি। সেগুলো যাতে না হয়, তার রাস্তা বের করতে হবে।’
নারী–শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পরে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাই তাঁর প্রথম কাজ হবে। দল-মত নির্বিশেষে মহিলাদের উপরে অত্যাচারের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। বিজেপির ঝান্ডা ধরলেও কোনও দোষী পার পাবে না। বর্তমান সরকারের আমলে বিকেল ৩টে হোক বা রাত ৩টে, মহিলারা নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন বলে আশ্বাস মন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘এতদিন মহিলাদের নির্যাতনের ঘটনায় থানায় গেলেও এফআইআর নেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমানে সে সব চলবে না। মহিলাদের উপরে নির্যাতনের ঘটনায় যে কোনও থানায় জি়রো এফআইআর করা হবে।’
অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে এদিন অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আগামী ১ জুন থেকে সব মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। তবে তার আগে, কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি জানান, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে (সার) যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁরা যদি কেউ টাকা পেয়ে থাকেন, তা হলে তাঁদের বাদ দেওয়া হবে। কারও মৃত্যু হয়ে থাকলে, সেই নামগুলিও বাদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া যদি দেখা যায়, কেউ ভারতের নাগরিক নন, অথচ টাকা পাচ্ছেন, তাঁদের নামও বাদ দেওয়া হবে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই তাঁরা বেনাগরিক হয়ে যাবেন না। পাশাপাশি এক আইনজ্ঞের বক্তব্য, এখনও ‘সার’–এর ‘অ্যাজুডিকেশনে’ বাদ যাওয়া প্রায় ২৭ লক্ষের আবেদন এই মুহূর্তে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য অংশের ভোটাধিকারে সিলমোহর দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁদের ক্ষেত্রেই বা সরকারি পরিষেবার কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘আপনারা আমাকে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিন। যাঁদের মাধ্যমে রেশন দুর্নীতি হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব।’ তিনি জানান, মে মাসে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলেও জুন মাস থেকে উপভোক্তারা রেশনে উৎকৃষ্ট মানের খাদ্যসামগ্রী পাবেন। অগ্নিমিত্রার মতো তিনিও জানান, দেশের নাগরিক নন এমন কেউ সরকারি সুবিধা পাবেন না। যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা সমস্ত সরকারি সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি মাটির মানুষ, লড়াই করে উঠেছি। না খাউঙ্গা, না কিসিকো খানে দুঙ্গা।’
কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা তো দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের যাঁরা দুর্নীতি করতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেবো অতটা ভালো মানুষ আমি নই।’ আদিবাসী উন্নয়ন এবং অনগ্রসর জাতি কল্যাণমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, ‘ভুয়ো শংসাপত্রের ভিত্তিতে যাঁরা সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁদের সব সুবিধা বাতিল করা হবে।’