এই সময়, পুরুলিয়া: মাতৃভাষা কুড়মালিতেই শপথ নিতে চলেছেন কুড়মি সম্প্রদায়ের তিন বিজয়ী বিধায়ক–সহ বিজেপির মোট পাঁচ জন। মঙ্গলবার এমনই দাবি করেছেন জঙ্গলমহলের বিজেপির একাধিক বিজয়ী প্রার্থী। জঙ্গলমহলের মোট পাঁচ জন কুড়মি সম্প্রদায়ের প্রার্থী জিতেছেন। পুরুলিয়ার তিন, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বিমান মাহাতো ও ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো রয়েছেন এই তালিকায়।
সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি কেন্দ্রের বিজেপির জয়ী বিধায়ক বিমান মাহাতো মাতৃভাষা কুড়মালিতে শপথ নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। এ দিন তিনি বলেন, ‘আমি মাতৃভাষা কুড়মালিতে শপথ নেওয়ার কথা জানিয়ে বিধানসভায় আবেদন করার করেছিলাম। কিন্তু বিধানসভায় কুড়মালি ভাষার অনুবাদক না–থাকায় তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা কেটে গিয়েছে। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিষয় নিয়ে অনুমতি চেয়েছিলাম। উনি কোনও সমস্যা নেই বলে আমাকে জানিয়েছেন।’
পুরুলিয়ার দলের তিন বিজয়ী বিধায়ক জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো, বাঘমুন্ডির রহিদাস মাহাতো ও বলরামপুরের জলধর মাহাতোও তাঁদের মাতৃভাষা কুড়মালিতে শপথ নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এ দিন রহিদাস বলেন, ‘কুড়মালিতেই শপথ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু বিধানসভায় তো এই ভাষার অনুবাদক নেই। তা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আশা করছি, মাতৃভাষাতেই শপথ নিতে পারব।’ তবে জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ বলছেন, ‘মাতৃভাষা কুড়মালিতে আমরা শপথ নেওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলাম। বিধানসভায় অনুবাদক না–থাকায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শপথের কুড়মালি অনুবাদ সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুড়মালি বিভাগ থেকে পাঠানো হয়েছে। তা মঞ্জুরও হয়েছে। জেলার তিন কুড়মি বিজয়ী প্রার্থীই কুড়মালিতে শপথ নেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কুড়মালি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সনৎ কুমার মাহাতো বলেন, ‘বিজয়ী বিধায়কদের শপথ গ্রহণের যে নির্ধারিত ফর্ম্যাট রয়েছে, তা আমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমরা তা কুড়মালিতে অনুবাদ করে দিয়েছি।’ আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো বলেন, ‘আগের সরকার কুড়মালি ভাষাকে বিধানসভায় স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে দাবি করেছিল। কিন্তু সেখানে তো কোনও অনুবাদকই নেই। যাই হোক, কুড়মি সম্প্রদায়ের যে পাঁচ জন জিতেছেন তাঁরা সবাই মাতৃভাষায় শপথ নিতে চলেছেন।’