এই সময়, কাটোয়া: প্রায় দেড় কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল মঙ্গলকোটের যবগ্রাম সমবায় সমিতিতে। হিসেবে কারচুপি করতে ভবন নির্মাণের টাকা দিয়ে সার কেনা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ সমবায়ে তাঁদের গচ্ছিত টাকা তুলতে গেলে দেওয়াও হচ্ছে না। মঙ্গলকোটের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ মঙ্গলবার সামনে আনেন গোটা ঘটনা। এ দিন তিনি সমবায়ের ম্যানেজারকে নিয়ে কাটোয়া সমবায় দপ্তরে হাজির হন। তিনি অডিট রিপোর্ট দেখতে চাইলে অর্থ তছরুপের ঘটনা উঠে আসে। এত টাকা কী ভাবে উধাও হলো, তার তদন্ত ও সমবায় সমিতির তহবিলে ওই টাকা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলকোটের এই সমবায় সমিতির নাম যবগ্রাম এসকেইউএস লিমিটেড। যবগ্রাম ও বামুনগ্রাম রয়েছে এর আওতায়। ওই দুই এলাকার বাসিন্দাদের সেখানে সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁরা তাঁদের জমানো টাকা তুলতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, সমবায়ে নাকি কোনও টাকাই নেই। বিষয়টি জানতে পেরে বিজেপির জয়ী প্রার্থী শিশির ঘোষ কথা বলেন সমবায়ের ম্যানেজার তপজ্যোতি পালের সঙ্গে। ম্যানেজার তাঁকে জানান, সমবায়ে আগে থেকেই টাকা নেই। এর পরেই ম্যানেজারকে নিয়ে শিশির কাটোয়া সমবায় দপ্তরে গিয়ে অডিট রিপোর্ট দেখতে চান। ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষের অডিট রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সেখানে দেখা গিয়েছে, সমবায়ের ভবন সংস্কারের জন্য এক কোটি ১৭লক্ষ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু ভবন সংস্কারে খরচ হয়েছে মাত্র তিন লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৭০ টাকা! তৎকালীন ম্যানেজার লিখিত ভাবে হিসাব দিয়েছিলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত সার ব্যবসায় যে মালপত্র কেনা হয়েছিল, তাতে বাকি এক কোটি ১৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ বিভিন্ন সার কোম্পানিকে সমিতির তহবিল থেকেই পাওনা মেটানো হয়েছে। পরে ২০২১-এর ২৭ মার্চ তৎকালীন ম্যানেজার ছ'মাসের মধ্যে ওই পরিমাণ টাকা সমিতির তহবিলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমিতিতে কোনও টাকাই জমা পড়েনি।
সমবায় সমিতির ডিআরসিএস (বর্ধমান রেঞ্জ-২) শৌনক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'আমরা অডিট রিপোর্টে সবই পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই টাকা ফেরানো হবে সমিতিতে।' বিজেপির জয়ী প্রার্থীর অভিযোগ, 'তৃণমূলের জমানায় মঙ্গলকোটে সমবায় সমিতিগুলি বেহাল হয়েছে। দিনের পর দিন সমবায়গুলিতে ভোট না-করিয়ে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। আমরা চাই, এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের জমানো টাকা ফেরত পান।'