বিভিন্ন অনুদান প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় অযোগ্য কত জন রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এমন অভিযোগ উঠত হামেশাই। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের আমলে সেই উপভোক্তা তালিকার যাচাই যে হবে, শুরুতেই তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, এই যাচাইয়ে বাদ পড়বেন না তো যোগ্য দরিদ্রেরা? কারণ, এসআইআর পরবর্তী সময়ে এমন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণের মূল ভিতটাই নড়ে গিয়েছে। অবশ্য সরকারের দাবি, কাউকে বাদ দেওয়া লক্ষ্য নয়।
সোমবারই জানা গিয়েছিল, ১ জুন থেকে শুরু হবে অন্নপূর্ণা প্রকল্প। তাতে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন মহিলা উপভোক্তারা। সে দিনই নারী-শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, সরকার উপভোক্তা তালিকার একটা যাচাই করতে চায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে (ভোটার তালিকা থেকে), যাঁরা এ দেশের নাগরিক নন, মৃত— তাঁরা উপভোক্তা তালিকায় থাকবেন না। তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, এসআইআরের আওতায় জেলাস্তরে বিচারকদের হাতে বাদ যাওয়া যে ভোটারদের বিচার বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে হচ্ছে এবং যাঁরা সিএএ-তে আবেদন করেছেন, তাঁদের আপাতত বাদ রেখে সিদ্ধান্ত হবে। পরে তা বিবেচনা করবে সরকার। ফলে বিভিন্ন মহলে চর্চা—ট্রাইবুনালে যাঁদের নাম বাদ যাবে এবং এমন যাঁদের বিচার সব শেষে আদালত করবে, তাঁদের কী হবে! ফলে যোগ্য দরিদ্রেরা বাদ পড়বেন কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
মঙ্গলবার অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম, মৃত, একাধিক বার যাঁদের নাম তোলা ছিল এবং অস্তিত্বহীন অতিরিক্ত উপভোক্তারা সরকারি সুবিধে পাবেন না, এটা স্পষ্ট। এ ছাড়া যাঁরা সিএএ-র আবেদন করেছেন এবং যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে রয়েছে, তাঁদের আমরা বাদ দিচ্ছি না। তাঁরাও আপাতত এই সুবিধা পাবেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁদের নাম পাকাপাকি ভাবে বাদ পড়ছে।’’ কিন্তু প্রশ্ন হল, যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে কী হবে? সূত্রের খবর, বাকি বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সেটি চূড়ান্ত হতে পারে।