রাজ্যে পালাবদলের পরে শ্রমজীবী মানুষের উপরে বার বার আক্রমণ নেমে আসছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষিতে ধারাবাহিক ভাবে রাস্তার আন্দোলনও শুরু করেছে বামেরা।
বিজেপি-র বিরুদ্ধে বুলডোজ়ার দিয়ে নিউ মার্কেটের কয়েক জন অস্থায়ী হকারদের বিপণি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ মানেনি। এই প্রেক্ষিতে ‘বুলডোজ়ার-রাজ নয়, কোনও বিভাজন নয়, চাই হকারদের রুজি-রুটির সুরক্ষা’, এমন স্লোগান তুলে সিটু অনুমোদিত কলকাতা স্ট্রিট হকার্স ইউনিয়নের কলকাতা জেলা কমিটির ডাকে মঙ্গলবার বড়বাজারের ক্যানিং স্ট্রিট থেকে বড়বাজার থানা পর্যন্ত কয়েকশো হকার মিছিল করলেন। এর আগেও সংগঠনের ডাকে বড়বাজার থেকে কলকাতা পুরসভা পর্যন্ত মিছিল হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অসিতাঙ্গ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “এসপ্ল্যানেড, বড়বাজার-সহ নানা জায়গায় গরিব হকারদের উপরে আরএসএস এবং বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আক্রমণ চালিয়েছে।” পূর্বতন সরকারকেও নিশানা করেছেন আন্দোলনকারীরা। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস দে বলেছেন, “তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে কেন্দ্রীয় হকার আইন অনুযায়ী রাজ্যে কোনও হকার আইন তৈরি করেনি। তা এ বার করতেই হবে। পাশাপাশি, প্রত্যেক হকারকে সচিত্র পরিচয়পত্র দিক রাজ্য সরকার।”
পাশাপাশি, সংযুক্ত কিসান মোর্চার পশ্চিমবঙ্গ শাখা ঠিক করেছে, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, বুলডোজ়ার নিয়ে হামলা চালানোর মতো নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্লকে ব্লকে বিক্ষোভ দেখানো হবে। বোরো ধান ও আনাজ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ, রাজ্যে ধান, আলু, পাট-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার মতো বিভিন্ন দাবিও তুলেছে তারা। মোর্চার তরফে অমল হালদার, কার্তিক পাল জানিয়েছেন, এসআইআর-এ বাতিল, বিবেচনাধীন ভোটারদের ‘বেনাগরিক’ করা, তাঁদের সরকার প্রকল্প থেকে ‘বাদ দেওয়া’র মতো নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী মাসে কলকাতায় মিছিলও হবে।