নিটের প্রশ্নফাঁসে ৩০ লক্ষের চুক্তি গুরুগ্রামের ডাক্তারের! রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার দুই ভাই
প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
ফের একবার নিট ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার করেছেন রাজস্থানের দুই ভাই মঙ্গিলাল ও দীনেশ বিওয়ালকে। জানা যাচ্ছে, এই দুই ভাই পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল গুরুগ্রামের এক ডাক্তারের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল নিটের প্রশ্নপত্র। ২৯ এপ্রিল তাঁরা এই প্রশ্নপত্র আরও বেশ কয়েকজনের কাছে বিপুল টাকায় বিক্রি করে।
অভিযুক্ত এই দুই ভাই রাজস্থানের জামওয়া রামগড়ের বাসিন্দা। এদের একজন সিকারে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রামগড় থেকে শিকার আড়াই ঘণ্টার পথ। এই অঞ্চলই প্রশ্নফাঁসের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, রামগড় থেকে প্রশ্নপত্র এমবিবিএস কাউন্সেলিং এজেন্ট রাকেশ কুমার মান্ডাওয়ারিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র। রাকেশ বিপুল টাকায় প্রশ্নপত্রটি বিক্রি করে শহরের বড় বড় কোচিং ইন্সটিটিউটে। ৩০ হাজার টাকায় রাকেশ কেরালার এক এমবিবিএস পড়ুয়াকে প্রশ্ন বিক্রি করেছিল। সেখান থেকেই ছড়ায় প্রশ্নপত্র।
রাজস্থান পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রশ্নফাঁসের আঁতুড়ঘর সম্ভবত নাসিকের এক ছাপাখানা। এখান থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি ‘চেন নেটওয়ার্ক’ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকেই প্রশ্ন পৌঁছয় গুরুগ্রামের ওই ডাক্তারের কাছে। এদিকে রাজস্থানের ওই দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের পর জেরায় জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র যে ফাঁস হবে সে খবর একমাস আগে থেকে তাঁরা জানতেন। অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের মধ্যে দীনেশ এক রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমে রাজস্থান পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। তবে সমস্যা বাঁধে রাজস্থানে। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল বিশাল বনশন বলেন, ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। অন্য একটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের ২৮১টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে।
গোটা ঘটনায় কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সুর চড়িয়েছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। ২০২৪ সালে নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। হাজার হাজার টাকায় প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ ওঠে দেশের নানা প্রান্তে। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হল কিনা, প্রশ্ন তোলেন রাহুলরা। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়ে দেয়, ৩ মে’র পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে। পড়ুয়াদের ফের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে।