• নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, শিলিগুড়িতে গ্রেপ্তার ২ বিদেশি! মিলল প্রচুর নথি
    প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
  • ইন্দো-নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় ৪১ নম্বর ব্যাটেলিয়ন এসএসবি-র রানিডাঙা সেক্টরের জওয়ানরদের জালে ২ বিদেশি নাগরিক-সহ মোট ৪ জন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নকশালবাড়ি থানার অন্তর্গত রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ থাইল্যান্ডের নাগরিক-সহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন ভারতীয় চালক এবং একজন নেপালের পাচারকারীও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    এসএসবি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে ইন্দো নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন মদনজোতের বি-কোম্পানির জওয়ানরা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৮৮/০৮ নম্বর পিলারের কাছে ওঁত পেতেছিলেন। সেই সময় একটি সন্দেহভাজন চার চাকা গাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভিতর থেকে দুই থাইল্যান্ডের মহিলা এবং তাঁদের সঙ্গীদের পাকড়াও করে কুইক রেসপন্স টিম। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত দুই বিদেশি মহিলার নাম নুসরা কিংওয়ান এবং সাবিনি চালাসাই।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসএসবি জানতে পেরেছে, তাঁরা থাইল্যান্ডের বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে থাকা নেপালি পাচারকারীর নাম অভিষেক শ্রেষ্ঠ ভারতালি, সে নেপালের ঝাপার মেচিনগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা মহম্মদ সলেমান নামে ওই গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করেছে এসএসবি। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, আধার কার্ড, নেপালি জাতীয় পরিচয়পত্র। ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এসএসবি-র অনুমান, ধৃত থাই মহিলারা মূলত অবৈধ পথে ভারতে ঢুকে দেহব্যবসার কারবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    ‘থাই মাসাজ’-এর আড়ালে তারা এই চক্র চালাতেন বলে জানতে পারে। নেপালি পাচারকারী অভিষেক তাঁদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করছিল। গ্রেপ্তারের পর ধৃতদের বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত সামগ্রী নকশালবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মঙ্গলবারই ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। এই বিষয়ে নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, “ধৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)