হার মানে তো জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়, হয়তো আমার থেকে মানুষের আরও প্রত্যাশা ছিল: সায়ন্তিকা
আনন্দবাজার | ১৩ মে ২০২৬
ভোটপর্ব মিটলেই অভিনয়ে ফিরবেন, এ কথা নিজেই জানিয়েছিলেন বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে সায়ন্তিকাকে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল একাংশের। এই পরাজয়ের পরে এ বার কী ভাবছেন সায়ন্তিকা?
গত কয়েক দিন জ্বরে ভুগেছেন। আগের চেয়ে অবশ্য এখন অনেকটাই সুস্থ। প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বললেন, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। মনখারাপ ঠিক নয়। হয়তো আমার থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল মানুষের। আমিই হয়তো সাধারণের আশা পূরণ করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করিনি, এমন বলব না। আমি চেয়েছিলাম নিজের সবটা দিয়ে কাজ করতে। সেটাই করেছি অনবরত।”
২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পরে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। অন্য দিকে তৃণমূল সাংসদ দেব আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছিলেন, “রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না।” সহকর্মীদের মতো সায়ন্তিকাও কি এ বার রাজনীতির পাট চুকিয়ে দিতে চান? বরাহনগরের প্রাক্তনী অবশ্য এমন কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন।
সায়ন্তিকা যোগ করেন, “আমি সরাসরি এমন কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আগামী দিনে কী করব? এখন থেকে তো বলতে পারি না। কিন্তু আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতে মন দিতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই। নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। এই কয়েকটা বছর মন দিয়েছিলাম রাজনৈতিক কাজে। তাই শরীরচর্চায় অনেকটাই ফাঁক পড়েছে। আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে চাই।”
বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সজল ঘোষকে কি কিছু বলতে চান সায়ন্তিকা? তাঁর স্পষ্ট উত্তর, তিনি এখন কিছুই বলতে চান না। জনমতে তিনি বিধায়ক হয়েছেন। তাই অভিনেত্রী আলাদা করে কিছু বলতে চান না। সায়ন্তিকার বক্তব্য, “জীবন তো থেমে যাবে না। এই পরাজয় মানে জীবন শেষ হয়ে গেল, সেটা তো নয়। আমার যে পেশা, যার সূত্রে আমার পরিচিতি— সেই দিকেই মন দিতে চাই।” তাই এই মুহূর্তে পর্দায় ফেরার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন সায়ন্তিকা।