• চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি রুখতে অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানিতে জোর সরকারের
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার পশ্চিমবঙ্গে আলুর অতিফলন হয়েছে। তার ফলে দামও তলানিতে। এই সমস্যা দূর করতে, কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই সক্রিয় হলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

    মঙ্গলবার তিনি মির্জা গালিব স্ট্রিটে কৃষি বিপণন দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এবার আলুর ফলন বেশি হয়েছে। ৭৫ লক্ষ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে হিমঘরগুলিতে। এই অবস্থায় ভিন রাজ্যে আলু বেশি করে পাঠাতে হবে। এনিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কিছুটা আলোচনা হয়েছে।

    কৃষি বিপণন মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও চাইছেন যে গোটা দেশের মানুষের কাছে এরাজ্যের আলু পৌঁছাক। আলু ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাম্য নয়। অনেকসময় দেখা যাচ্ছে, বস্তার দাম আলুর থেকে বেশি হয়ে যাচ্ছে! আলু বেচে চাষি, ব্যবসায়ী সবাই যাতে লাভবান হতে পারেন সেটাই দেখতে হবে।

    দপ্তর সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার কৃষি বিপণন পর্ষদের অফিসে আলু নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রীও আসতে পারেন। আলুর সঙ্গে যুক্ত সরকারি আধিকারিক ও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা ওই বৈঠকে থাকবেন।

    আবহাওয়া চাষের অনুকূল ছিল। তাই আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের মতে, রাজ্যের ৫১৭টি হিমঘরে এবার প্রায় ৮০ লক্ষ টন (১৬ কোটি ৫০ কেজির বস্তা) আলু মজুত আছে। এটা রাজ্যের নিজস্ব চাহিদার থেকে অনেকটাই বেশি। এত বেশি পরিমাণ আলু মজুত এর আগে কখনো হয়নি। ফলন বেশি হওয়ার জন্য নতুন আলু ওঠার পর চাষিরা দাম খুব কম পেয়েছেন। জ্যোতি আলু মোটামুটি ৪ টাকা কেজি দরে দাম পেয়েছেন তাঁরা। এতে চাষের খরচও ওঠেনি। মে মাস থেকে হিমঘরে মজুত আলু বেরোতে শুরু করলেও লাভজনক দাম মিলছে না। জানিয়েছেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ নেতা লালু মুখোপাধ্যায়। পরে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এবার ৮০ শতাংশের বেশি আলু হিমঘরে রেখেছেন চাষিরা। সেখানে ৫০ কেজি জ্যোতি আলুর বস্তার ‘বন্ড’ বিক্রি করে মিলছে মাত্র ২০০ টাকা (৪ টাকা কেজি)। হিমঘরের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে ভালো মানের আলু বের করলে তার দাম পড়ছে বস্তায় ৪৫০ টাকা (৯ টাকা কেজি)। সব মিলিয়ে মোটেই লাভ থাকছে না।

    লালুবাবুর কথায়, এখন রাজ্য সরকার দুভাবে সাহায্য করতে পারে। ভিন রাজ্যে আলু পাঠাতে পরিবহণ খরচে ভরতুকি দিতে পারে। কয়েকবছর আগে রাজ্য সরকার ভিন রাজ্যে আলু পাঠাতে কেজিতে ৫০ পয়সা হারে ভরতুকি দিয়েছিল। এর পাশপাশি হিমঘরের ভাড়াতেও ভরতুকি দেওয়া যায়।

    আলু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পূর্বতন জমানায় হঠাৎ হঠাৎ ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর উপর বিধিনিষেধ জারি করার ফলে তাঁদের ক্ষতি হয়েছিল। এতে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও তাঁরা ব্যবসা হারিয়েছেন অনেকাংশে। স্বভাবতই আলুর বাজার ধরে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এই অবস্থায় পরিবহণ খরচে ভরতুকি দিলে কম খরচে আলু পাঠিয়ে বাজার ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে। রাজ্যের নিজস্ব প্রয়োজনে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৫ লক্ষ টনের মতো আলু লাগে। ফলে প্রচুর আলু বাইরে গেলেও কোনো সমস্যা হবে না। বিদেশে আলু রপ্তানি করার ব্যাপারেও রাজ্য সরকার সক্রিয় হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এপিডার সঙ্গে সমন্বয় করে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)