• শিল্পের জন্য শহুরে এলাকায় ‘ল্যান্ড সিলিং’ তুলে দেওয়ার ভাবনা রাজ্যের
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়ো শিল্পের জন্য দরকার বড়ো জমি। সেই জমি যাতে শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা না-হয়, তার জন্য নতুন জমি নীতি আনবে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার কলকাতায় বণিকসভা বিএনসিসিআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীকবাবু ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, সরকারের যদি কোনো জমি নীতিই না-থাকে, তাহলে বিনিয়োগ আসা সম্ভব নয়। এই নীতি নির্ধারণে মডেল রাজ্য হিসেবে মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব বা হরিয়ানাকে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শমীকবাবু বলেন, ওই রাজ্যগুলিতে যে জমি নীতি আছে, তা সফল। এখানেও তেমনই পলিসি আনা হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, শিল্পের জন্য জমি দিতে শহরাঞ্চলের জমির ঊর্ধ্বসীমা আইন তুলে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা চলছে।

    প্রসঙ্গত, পূর্বতন সরকারের ঘোষিত নীতি ছিল, তারা শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করবে না। শিল্পমহলকে জমি কিনতে হবে নিজের উদ্যোগেই। সেখানে সমস্যা হলে সরকার সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে মাত্র। অভিযোগ ছিল, এরাজ্যে বড়ো শিল্পের খরার অন্যতম কারণ ওই জমি নীতি। শমীকবাবুর এই বক্তব্যে খুশি শিল্পমহল।

    বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায় বলেন, আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি করেছিলাম, এখানে নতুন জমিনীতি আনা হোক এবং জমির ঊর্ধ্বসীমা আইন তুলে দেওয়া হোক। জমি সংক্রান্ত যে আইনি জটিলতাগুলি আছে, সেগুলি কাটানো হোক। রাজ্য সরকার যদি সেই পথে এগোয়, তাহলে সাধুবাদ জানানোর ভাষা নেই। আমাদের আশা, আজ থেকে ৬০ বছর আগে বাংলায় শিল্পের যে জোয়ার এসেছিল, সেই হারানো গৌরব ফের ফিরবে।

    এদিন শিল্পমহলকে ভীতিহীন পরিবেশ উপহার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন শমীকবাবু। তিনি বলেন, নির্ভয়ে বিনিয়োগ করুন। কোনো দলের কোনো কর্মী বা কর্তা তার জন্য পয়সা চাইবেন না। যদি কোনো বিধায়ক বা নেতা শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করেন, তাহলে তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নিদান দিয়েছেন তিনি। শমীকবাবু বলেন, এরাজ্যে শিল্পের অনুকূল সবই আছে—জল, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো, দক্ষ শ্রমিক এবং রাজ্যের সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থান। অথচ এরপরেও গত ১০ বছরে এখন থেকে শিল্প বাইরে চলে গিয়েছে! বিকল্প রাজ্য হিসেবে লগ্নিকারীরা বেছে নিয়েছেন উত্তরাখণ্ড কিংবা উত্তরপ্রদেশকে। এমনকি, যেসব শিল্পপতি বিগত বছরগুলিতে এরাজ্যের শিল্প-আবহাওয়ার প্রভূত প্রশংসা করেছেন, তাঁরাও তাঁদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ভিন রাজ্যে। এখানে কোনোই লগ্নি হয়নি।

    এই প্রসঙ্গেই ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না করে শমীকবাবুর খোঁচা, কেউ কেউ সুদূর স্পেন থেকে বাংলায় বিনিয়োগ করার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বল একেবারে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছে। এই আমলে সেসব হবে না। যাঁরা বিনিয়োগের ঘোষণা করবেন, তা বাস্তবায়িত হবে। এদিন শমীকবাবু ইঙ্গিত দিয়েছেন, কৃষিকাজে সমবায় ব্যবস্থা আনা হবে। এসইজেডের ক্ষেত্রেও যে তাঁদের আপত্তি নেই, বুঝিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)