• ‘শিল্পীরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেই ভালো’ - সাহেব ভট্টাচার্য
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘গঙ্গা’-এ সাহেব ভট্টাচার্যকে পুলিশের চরিত্রে দেখছেন দর্শক। নতুন চরিত্র এবং রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে আড্ডা দিলেন অভিনেতা।

     ধারাবাহিকের ফিডব্যাক কেমন?
    খুবই ভালো। গল্প, চরিত্র মানুষের পছন্দ হচ্ছে। টিআরপি বা স্লট-এর মতো কিছু ফ্যাক্টর আমাদের হাতে থাকে না। সেসব নিয়ে আমরা ভাবছি না। কাজটা সৎভাবে করতে চাইছি।

     পুলিশের চরিত্রের ম্যানারিজম কীভাবে রপ্ত করলেন?
    পুলিশে উচ্চপদস্থ জায়গায় চাকরি করেন এমন পরিচিত দাদারা রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করি। তাছাড়া সিনেমা বা টেলিভিশনে পুলিশের একটা আলাদা হিরোইজম থাকে। সেই অনুযায়ী চরিত্র তৈরি হয়। আমার চরিত্র অর্জুনের একটা মানবিক দিকও দেখানো হচ্ছে।

     হিয়া মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি তৈরি হল?
    জুটি খুব কম তৈরি হয়। এর কোনো ফর্মুলা নেই। আমার মনে হয়, জুটির থেকেও এই দুই চরিত্র কি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে, এবং একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়াটা ঠিক হচ্ছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু কমেন্ট আমার চোখে পড়েছে। সেখানে কেউ বলছেন, সাহেব, সুস্মিতার জুটি (‘কথা’ ধারাবাহিকের জুটি) বেস্ট। কেউ এই জুটিরও প্রশংসা করছেন। আসলে এই ধরনের ধারাবাহিক জনপ্রিয় হতে একটু সময় লাগে।

     তাহলে এখনও দর্শক সাহেব-সুস্মিতার জুটি নিয়েই মেতে রয়েছেন?
    কিছু দর্শক সাহেব-সুস্মিতা জুটির কথা বলেছেন ঠিকই। প্রাথমিক ভাবে হিয়ার উপর অনেক নেগেটিভ কমেন্ট এসেছিল। সেটা পুরোটা অর্গ্যানিকও নয়। হিয়া আপসেট হয়ে পড়েছিল। আমি বলেছি, এসব নিয়ে একদম বিচলিত হবে না। ফ্লোরে ঢুকে চরিত্র হয়ে যেতে হবে, এটা আমাদের কাজ। এর বাইরে কে ট্রোল করছে, সেটা নিয়ে ভাবলে হবে না। ‘কথা’ ধারাবাহিক আর রিপিট হবে না। এটা আমাকেও বুঝতে হবে, দর্শককেও বুঝতে হবে। একটা নতুন চরিত্র করতে হবে, সেটা ভেবেই আমি শূন্য থেকে শুরু করেছি। দর্শকও যদি ভাবেন, ‘কথা’ ধারাবাহিকের মতো সাহেবকে দেখতে পাব, তাহলে হতাশ হবেন। স্বাদবদল তো দরকার (হাসি)।

     সদ্য পশ্চিমবঙ্গে স্বাদবদল হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা?
    শিল্পীরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেই ভালো। আমরা যা কাজ করি, সেটা সব দলের মানুষই দেখেন। যখনই শিল্পীর সঙ্গে একটা রং লেগে যায়, তার একটা উদ্দেশ্য তৈরি হয়ে যায়। পালাবদল হয়েছে, মানুষ বদল চেয়েছিলেন। নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে শিল্পী। তাঁদের ‘পাল্টিবাজ’ বলা হচ্ছে। আমি এতদিন কোনো বক্তব্য রাখিনি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, পাল্টি তো জনতাই মেরেছে। শিল্পীরা আলাদা কোথায়? জনতা পাল্টি মেরেছে বলেই তো বদল হয়েছে। এটা ‘পাল্টি’ নয়, বদল।

     টলিউড কি রাজনীতিমুক্ত হবে?
    জানি না। এটা তো ব্যক্তিগত পছন্দ। আমি শিল্পীবন্ধুদের বলব, দলের রং লেগে গেলে দর্শকের ভালোবাসা বিভাজন হয়ে যায়। আজ টলিউডের যে শিল্পীদের রাস্তায় ‘চোর চোর’ বলে ধিক্কার দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ, আমাদের শুনতে খারাপ লাগছে। কারণ তাঁদের কাজ দেখে আমরা একসময় আনন্দ পেয়েছি। আমার মনে হয় দর্শকেরও খারাপ লাগছে। যাঁরা সক্রিয়ভাবে সংগঠন করেন, তাঁরা করুন। যাঁরা শিল্পী, তাঁরা নিজেদের শিল্প নিয়ে থাকুন।

     ‘ব্যান’ সংস্কৃতি কি বদলাবে?
    যদি কাউকে কাজ দিতে না পারি, কারও কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার আমার নেই— এটা আমার ধারণা। একটা ভয়ের বাতাবরণ তো ছিলই। কিন্তু সব পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ করে যেতে হবে। যাতে কাজের সংখ্যা বাড়ে, আমরা নির্বিঘ্নে ছবি করতে পারি, সিঙ্গল স্ক্রিন বাড়ে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

     একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন, আপনার নাকি এবছরই বিয়ে?
    (হাসি) এরকম কোনো খবর এই মুহূর্তে নেই। তবে জীবন সারপ্রাইজে ভরতি। হঠাৎ করেই শুনলেন বিয়ে হয়ে গিয়েছে...।
  • Link to this news (বর্তমান)