দীর্ঘ নয় বছরের পথচলায় ইতি। রাজ্যের মহিলা কমিশনের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। গত এপ্রিল মাসে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরই শোনা গিয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন তিনি। এবার রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়তেই পদত্যাগ করলেন লীনা।
মঙ্গলবার রাতেই পদত্যাগের খবরে সিলমোহর বসিয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও তাঁর ইস্তফাপত্র এখনও পর্যন্ত গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করেননি তিনি। লীনার মন্তব্য, “দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের মহিলা কমিশনের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কমিশন থেকে এখনও আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।” সূত্রের খবর, বুধবার কমিশনের দপ্তরে বৈঠক ডেকেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
লীনার এহেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একাংশ বঙ্গে পালাবদলের রাজনীতির দিকেই ইঙ্গিত করছেন। ওয়াকিবহলমহলের মত, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বাংলার মসনদে বহাল তবিয়তে বসেছে বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতে টলিউডের অন্দরেও বর্তমানে গেরুয়া ঝড়। সর্বত্রই পরিবর্তনের ছাপ সুস্পষ্ট। এদিকে গত ২৯ এপ্রিল রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর দিকে একযোগে আঙুল তোলে বাংলার সিনেইন্ডাস্ট্রি। সেসময়েই লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চেয়ে সরব হয়েছিলেন একাংশ। অতঃপর প্রাক্তন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পালাবদলের রাজনীতিতে যে তাঁকেও সরে দাঁড়াতে হবে, অনেকেই এমনটা ভেবেছিলেন। এবার সেই জল্পনাকে সত্যি করেই গত সোমবার মহিলা কমিশনের ‘সভাপতি’ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে এই দায়িত্ব থেকে লীনা অব্যাহতি নিলেন, যখন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পেলেন বিজেপির নেত্রী-অভিনেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেকথা মনে করিয়েই লীনার পদত্যাগের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজশের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন একাংশ। মহিলা কমিশনের সভাপতি পদে একটানা ৯ বছর থাকা যায়। বিগত নয় বছর ধরে সেই দায়িত্ব সামলেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতে আগামী জুলাই মাসে তাঁর মেয়াদ সম্পর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই সংশ্লিষ্ট পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ভবিষ্যতে ফের টেলিভিশনের ধারাবাহিকের দায়িত্বে ফিরবেন কিনা? নজর থাকবে সেদিকে।