• অফিস সরাতে নোটিস রেলের, নৈহাটিতে পার্টি অফিস খালি করল তৃণমূল, কান্না পুরপ্রধানের
    এই সময় | ১৩ মে ২০২৬
  • এই সময়, নৈহাটি: নৈহাটি স্টেশন লাগোয়া রেলের জমিতে গড়ে তোলা তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে চলত দলীয় কাজকর্ম। নিয়ম করে সেখানে বসতেন তৃণমূল পরিচালিত নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়। বহু বছরের পার্টি অফিসটি মঙ্গলবার রেলের তরফে খালি করার নোটিস দেওয়া হয়। সেই খবর পেয়ে দলীয় অফিসে এসে রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন পুরপ্রধান। প্রবীণ নেতাকে কাঁদতে দেখে দলীয় কর্মীরাও কেঁদে ফেলেন। পরে অবশ্য পুরপ্রধানের নির্দেশে দলীয় অফিস থেকে সমস্ত আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অফিসটি খালি করে দেওয়া হয়।

    ১৯৮৬ সালে বাম আমলে নৈহাটি স্টেশনের পাশে রেলের জমিতে তৈরি হয়েছিলো রিকশা ইউনিয়নের কার্যালয়। সেখানে রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের কাজকর্মও চলত। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই কার্যালয় থেকেই নৈহাটি তৃণমূলের কাজকর্ম পরিচালিত হতো। এই অফিসেই নিয়মিত বসে দলীয় কাজকর্ম দেখতেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়।

    মঙ্গলবার এই অফিসে নোটিস দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় রেল। বুধবার সকাল দশটার মধ্যেই তৃণমূলের ইউনিয়ন অফিস খালি করতে হবে, এই খবর পেয়ে নৈহাটি স্টেশন চত্বরে ব্যাপক চঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

    নোটিসটি হাতে নিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। আবেগমিশ্রিত গলায় তিনি বলেন, 'নৈহাটি শহরের অন্যতম পুরোনো এবং প্রধান কার্যালয় ছিল এটি। এই অফিস অনেক লড়াই আন্দোলনের সাক্ষী। আচমকা নোটিস দিয়ে খালি করতে বলেছে রেল, কিন্তু তাতে কোনও স্ট্যাম্প বা সিল নেই। তবুও আমরা অফিসটি খালি করে দিচ্ছি।' এর পরই অফিসে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র বের করে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূলের তরফে।

    ভোটের ফল বেরোতেই একে একে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলের খবর আসছে। এর মধ্যে টিটাগড়ে প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো তৃণমূলের পার্টি অফিসের সাইনবোর্ড খুলে ভবনটির রং পাল্টে দেওয়া হলো এ দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড় টাটা গেটের কাছে ওই পুরোনো পার্টি অফিসটি টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীর। তাঁর নামেই এই পার্টি অফিস পরিচিত ছিল। মঙ্গলবার সকালেই দেখা গেল পার্টি অফিস থেকে তৃণমূল কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড খুলে নেওয়া হচ্ছে। এর পরই ভবনটিতে সাদা রং করে দেওয়া হয়। পরে প্রশান্ত চৌধুরী বলেন, 'এই অফিসটি আমার মায়ের নামে। তাঁর থেকেই টাকা দিয়ে আমি এই অফিসটি নিয়েছিলাম। এখন সময় বদলেছে, তাই রং বদলাল। চাইলে নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং এই অফিস ব্যবহার করতে পারেন।'

  • Link to this news (এই সময়)