আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিয়ম খাতায়-কলমে বরাবরই ছিল। কিন্তু তা মানার ক্ষেত্রে ঢিলেমি ছিল বিস্তর। কাজ ফেলে রাখা বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়া- দীর্ঘদিনের এই ‘ফাঁকি’র সংস্কৃতিতে এবার কোপ বসাতে চাইছে রাজ্যের নতুন সরকার।
১৫ বছর পর বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল। নতুন সরকার গড়তেই কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। মঙ্গলবার এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি কর্মীদের অফিসে আসা-যাওয়ার সময় এবার থেকে ঘড়ি ধরে মানতে হবে।
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে গিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেও কাজ মেলে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের জন্য। আগের সরকারের আমলেও ১০টা-৫টার নিয়ম ছিল। কিন্তু তার প্রয়োগ প্রায় ছিল না বললেই চলে। এমনকী, নবান্নের অনেক অফিসারই আড়ালে স্বীকার করেন, ফাঁক পেলেই কাজে ফাঁকি দেওয়াটা একরকম দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
নতুন জারি হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-
সকাল ১০টার মধ্যে দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে।
বিকেল ৫টার আগে কোনওভাবেই অফিস চত্বর ছাড়া যাবে না।
কাজের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বা ফাঁকি বরদাস্ত করবে না সরকার।
গতকাল সচিবদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে দেন তাঁর সরকারের অবস্থান। তিনি আধিকারিকদের অভয় দেওয়ার পাশাপাশি কর্তব্য পালনে অবিচল থাকার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের কাজ সরকারের মতোই করুন। মাথা উঁচু করে কাজ করুন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আলাদা করে কোনও অনুপ্রেরণার দরকার নেই, কাজই যেন প্রধান লক্ষ্য হয়।”
নবান্নের এই সক্রিয়তায় প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিল, স্রেফ নিয়ম থাকাটাই বড় কথা নয়, সেই নিয়ম মেনে চলাই হবে নতুন জমানার আসল উদ্যম।