• বিয়ের আসরে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, উত্তপ্ত ময়নাগুড়ি
    আজকাল | ১৩ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের মেজাজ নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। বিয়ের আমেজ গায়ে মেখে বরযাত্রী হিসেবে এসে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এক আদিবাসী গৃহবধূ। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থানা এলাকায় বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ফালাকাটা থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তিন অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করেছে।

    ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ মে। পুলিশ সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ ফালাকাটা সংলগ্ন একটি চা বাগানের মহল্লায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রী হিসেবে এসেছিলেন। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তাঁরই পরিচিত তিন যুবক তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর ওপর চলে পাশবিক অত্যাচার। অকুস্থলটি অত্যন্ত নির্জন হওয়ায় নির্যাতিতার চিৎকার কারোর কানে পৌঁছায়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং লোকলজ্জার ভয়ে ওই রাতে বিয়ের আসরে মুখ না খুললেও, বাড়ি ফিরে নিজের স্বামীকে সব কথা খুলে বলেন ওই নারী।

    মানসিকভাবে ভেঙে পড়া স্ত্রীকে নিয়ে ১১ মে রাতে ফালাকাটা থানার জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়িতে হাজির হন তাঁর স্বামী। লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তড়িঘড়ি অভিযানে নামে পুলিশ। ময়নাগুড়ি থানার সহযোগিতায় সোমবার রাতেই তিন অভিযুক্তকে জালে তোলে ফালাকাটা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    তদন্তকারী আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় গৃহবধূকে নেশাজাতীয় কোনও দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি না। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ঘটনাস্থলে চতুর্থ এক ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি এই অত্যাচারে লিপ্ত ছিলেন না। তবে তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জটেশ্বর ফাঁড়ির ওসি জগদীশ রায় জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনায় ময়নাগুড়ির সংশ্লিষ্ট গ্রামে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
  • Link to this news (আজকাল)