• শিয়ালদা-লালগোলা রুটে ফিরছে শৌচাগার-সহ 'মেমু'!
    আজকাল | ১৩ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় এক বছরের ভোগান্তির পর অবশেষে সুখবর শোনাল পূর্ব রেল। শিয়ালদা-লালগোলা শাখায় ফের চালু হচ্ছে শৌচাগার-সহ  'মেমু' প্যাসেঞ্জার ট্রেন। আগামী ১৪মে থেকেই লাইনে নামছে ৭টি 'মেমু' রেক।

    ১২মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ব রেল জানিয়েছে, শিয়ালদা-লালগোলা এবং শিয়ালদা-রানাঘাট শাখায় মোট ৭টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন  'মেমু' রেকে চলবে। প্রতিটি ট্রেনেই থাকছে শৌচাগারের সুবিধা।

    এই ট্রেনগুলি হল, ৬৩১০৫ শিয়ালদা-লালগোলা প্যাসেঞ্জার,  ৬৩১৩৪ লালগোলা-রানাঘাট প্যাসেঞ্জার , ৬৩১৩৩ রানাঘাট-লালগোলা প্যাসেঞ্জার, ৬৩১০৪ লালগোলা-শিয়ালদা প্যাসেঞ্জার,  ৬৩১৭৭ শিয়ালদা-লালগোলা প্যাসেঞ্জার,  ৬৩১০৮ লালগোলা-শিয়ালদা প্যাসেঞ্জার,  ৬৩১০৭ শিয়ালদা-লালগোলা , ৬৩১০৬ লালগোলা-শিয়ালদা প্যাসেঞ্জার।  

    তবে আপাতত ৬৩১০১ কলকাতা-লালগোলা এবং ৬৩১০২ লালগোলা-কলকাতা  'মেমু' প্যাসেঞ্জারের বদলে কয়েকদিন ইএমইউ রেক দিয়ে পরিষেবা চলবে বলে জানানো হয়েছে।

    প্রায় ২৩০ কিমি দীর্ঘ এই শাখায় বর্তমানে যে ট্রেনগুলো চলে তার মধ্যে ভাগীরথী এক্সপ্রেস, হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস, ধনধান্য এক্সপ্রেস সহ আরও কয়েকটি ট্রেনে গৌচাগার থাকলেও , এই শাখার বেশিরভাগ ট্রেনে শৌচাগার থাকছিল না বলে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল। 

    প্রসঙ্গত, গত বছর মে মাসে রেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, শিয়ালদা-লালগোলা শাখা থেকে ১১টি 'মেমু' তুলে নিয়ে 'ইএমইউ' চালানো হবে। সূত্রের খবর, সেই সময় শিয়ালদা লালগোলা শাখার 'মেমু' ট্রেনগুলি তুলে নিয়ে সেগুলি হাওড়া ডিভিশনে হাওড়া-কাটোয়া লাইনে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল পূর্ব রেলের তরফে। সমস্যার সূত্রপাত  তখনই। 

    ইএমইউ রেকগুলোতে কোনও শৌচাগার না থাকায় পূর্ব রেল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল যে, ওই ট্রেনে যাত্রীদের প্রকৃতির ডাকে সাড়ে দেওয়ার জন্য কৃষ্ণনগর স্টেশনে একাধিক ট্রেনকে ১৯-৩২ মিনিট পর্যন্ত দাঁড় করানো হবে। যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত যাত্রীরা প্রয়োজনমতো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারেন। রেলের এই নির্দেশিকা জারি করার পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

    সেই সময় বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র এবং মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ সহ একাধিক রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন  এই ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন। রেলকর্তা ও তৎকালীন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন মুর্শিদাবাদ জেলার তৎকালীন দুই বিজেপি বিধায়ক। 

    পরে চাপের মুখে সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করেছিল রেল। তবুও কিছু ট্রেন ইএমইউ কোচ দিয়েই চলছিলই। ফলে যাত্রীদের হয়রানি পুরোপুরি মেটেনি। শিয়ালদা-লালগোলা শাখায় প্রতিদিন প্রচুর বয়স্ক মানুষ এবং কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক রোগীকে যাতায়াত করতে হয়। লালগোলা থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিমি যাত্রাপথে ট্রেনে শৌচাগার না থাকায় তাঁরা প্রচন্ড সমস্যার মধ্যে পড়তেন।  এবার ৭টি ট্রেনে শৌচাগার ফিরে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস শিয়ালদা-লালগোলা শাখার যাত্রীদের মধ্যে।

    গৌরীশংকরবাবু বলেন, "লালগোলা-শিয়ালদা শাখায় বেশিরভাগ ট্রেনে শৌচাগার না থাকায় এই শাখার যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। আমি এবং বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র যাত্রী অসন্তোষের বিষয়টি শিয়ালদা ডিভিশনের ডিআরএম-কে জানিয়েছিলাম। সেই সময় আমাদের বলা হয়েছিল নতুন কোচ এলেই এই শাখায় 'মেমু' ট্রেন পুনরায়  চালু করা হবে।"

    তিনি বলেন ,"ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী যাত্রী সাচ্ছন্দ্য নিয়ে সবসময়ই ভাবছেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় এবং রেল দপ্তরের কর্তাদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর শিয়ালদা-লালগোলা শাখায় যাত্রী অসন্তোষ দূর হলো। আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। "
  • Link to this news (আজকাল)