আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা ফৌজদারি আদালত খুলতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল সেখানে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না মিললেও আগুনে পুড়ে বেশ কিছু সরকারি নথি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, লালবাগ আদালতে লাগানো কোনও এসি মেশিন থেকে শর্ট সার্কিটের ফলেই এই আগুন লেগেছে। দমকলের ইঞ্জিন প্রায় আধ ঘন্টার চেষ্টায় লালবাগ আদালত চত্বরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
লালবাগ আদালতের আইনজীবী শওকত আলি বলেন, “বর্তমানে যে ভবনে লালবাগ আদালত চলছে সেটি একসময় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অনুরোধে পিডব্লিউডি দপ্তরের তৈরি করা এই চারতলা ভবনটি ১৯৯৬ সাল থেকে আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি জানান, “এই ভবনে বর্তমানে বিভিন্ন মামলার প্রায় ৫০ হাজার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। এই ভবনটি যখন থেকে আদালত হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে তখনই আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ভবনকে সংস্কার করে এটিকে ‘কম্পোজিট আদালত ভবন’ হিসাবে তৈরি করা হবে।”
আইনজীবীদের অভিযোগ, এরপর বহু দশক কেটে গেলেও এই আদালতের পরিকাঠামোর কোনও উন্নয়ন করা হয়নি। গোটা বিষয়টি একাধিকবার লালবাগ আদালতে কর্তব্যরত এসিজেএম ও অতিরিক্ত জেলা জজদেরকে এবং জেলা জজকেও জানানো হয়েছে বলে আইনজীবীদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, লালবাগ আদালতের পরিকাঠামোর পরিবর্তন না করেই একাধিক এসি মেশিন বসানো হয়েছে। ভবনের পুরনো বৈদ্যুতিক তার পরিবর্তন করা হয়নি। এছাড়াও এই আদালতের জন্য আলাদা করে কোনও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও বসানো হয়নি। তার ফলেই আজ শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
শওকত আলি আরও বলেন, “প্রতিদিন এই আদালতের প্রচুর মানুষ বিচারের আশায় আসেন। এই আদালতে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন মামলার নথি সংরক্ষিত রয়েছে। আজকের অগ্নিকাণ্ডে সেই সমস্ত নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।” ওই আদালতে কর্মরত অপর আইনজীবী সব্যসাচী দত্ত বলেন, “লালবাগ আদালতে বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বহুবার আমাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের এবং আদালতের বিচারকদেরও কথা হয়েছে। কিন্তু কেউই গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগী হননি।” তিনি বলেন," আজ যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হয়েছে তা দমকল দপ্তরের কর্মীরা সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে 'রেকর্ড রুম' এবং 'বার রুমে' আগুন লেগে যেতে পারত। তারফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতো।"