• বিস্ফোরক সিপিআই(এম) নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য!
    আজকাল | ১৩ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের বন্ধুত্ব, ভোটের আগে নিয়মিত কথা হতো—বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে এমনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন সিপিআই(এম) নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলবদল যখন জলভাতে পরিণত হয়েছে, তখন বাম শিবিরের এই বর্ষীয়ান নেতার মুখে বিরোধী দলনেতার প্রতি এই সৌজন্যের সুর নতুন করে জল্পনার রসদ জুগিয়েছে। তবে তন্ময়বাবু নিজে একে নিছকই ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের হৃদ্যতা হিসেবেই দেখছেন।

    এদিন বিধানসভায় নিজের কাজে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তন্ময় ভট্টাচার্য জানান, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজকালের নয়, বরং দীর্ঘ দেড় দশকের। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা চলত। তবে এই বন্ধুত্বের সঙ্গে রাজনীতির কোনও  সংঘাত নেই বলেই তাঁর দাবি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্তরে কথা হলেও ভোটের ময়দানে তিনি শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই প্রচার করেছেন। দলবদলের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বেশ কিছুটা দার্শনিক ঢঙেই বলেন যে, রাজনীতিতে দলবদল চিরকালই ছিল; কেউ করেন, কেউ করেন না। এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই।

    ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে তিনি বর্ণনা করছেন কীভাবে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে শুভেন্দু অধিকারী ওই মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই কোনও  লুকোছাপা না করে তিনি জানান যে, বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে তিনি হাত মেলাবেন এবং শুভেচ্ছা জানাবেন, এটাই স্বাভাবিক শিষ্টাচার। তাঁর মতে, তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় আলাদা করে নতুন কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না।

    তন্ময় ভট্টাচার্যের এই সোজাসাপ্টা বয়ান বাম মহলে বা রাজনৈতিক অলিন্দে কী প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে, তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে ব্যক্তিগত সৌজন্যের এই নজির বর্তমান সময়ের তিক্ত রাজনৈতিক আবহে নিঃসন্দেহে একটি বিরল ঘটনা। নিজের বামপন্থী আদর্শে অবিচল থেকেও বিরোধী শিবিরের নেতার সঙ্গে সম্পর্কের এই স্বচ্ছতা প্রকাশ করে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন যে, মতাদর্শের লড়াই ব্যক্তিগত শত্রুতায় পর্যবসিত হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য যেমন বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়, তেমনই ভোটের আগে যোগাযোগের বিষয়টি ভবিষ্যতে নতুন কোনও  রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে চর্চা চলতেই থাকবে।
  • Link to this news (আজকাল)