বিএনএস-এর ধারায় প্রথম সাজা পেল মুর্শিদাবাদের ১২ জন!
আজকাল | ১৩ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' চালু হওয়ার পর এই প্রথম কাউকে অশান্তির পর পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনাল আদালত। বুধবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস ১২ জনকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র ১৯১(২ ), ৩২৪ (৬) ৩২৬ (জি), ৩২৬ (এফ) ১০৯, ৩৩১(৫), ৩৩২(বি), ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর পাশাপাশি প্রত্যেক ব্যক্তিকে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই মামলার বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস রাজ্য সরকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত বছর এপ্রিল মাসে একটি বিশেষ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং সুতি থানার বিস্তীর্ণ অংশ। অভিযোগ ওঠে সেই আন্দোলন চলার সময় সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ-পালপাড়া গ্রামে ১২ এপ্রিল জনৈক বলরাম পাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায় কিছু দুষ্কৃতী।
অভিযোগ, ঘটনার দিন বলরামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিরা বাড়ি ভাঙচুর করে। পাশাপাশি বলরাম এবং তাঁর ছেলে রঞ্জিত পালকে বাড়ির ভেতরে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। এই মামলার তদন্ত শুরু করার পরে 'সিট'-এর তদন্তকারীরা মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ সময়মতো চার্জশিট দিয়ে দেওয়ায় কারওরই জামিন হয়নি। বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া চলছিল।
বুধবার জঙ্গিপুর আদালত ১২ জনকে বিএনএস-এর ১০৯ (খুনের চেষ্টা) এবং ১৯১ (২) (দাঙ্গা লাগানো) ধারা ছাড়াও আরও একাধিক ধারায় সাব্যস্ত করে সাজা শোনাল।
প্রশাসন সূত্রের খবর, জাফরাবাদ-পালপাড়া এলাকায় যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছিল তার থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে বাড়িতেই খুন হয়েছিলেন বাবা এবং ছেলে, হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস।
এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী অঙ্কৃত মুখার্জি বলেন,"হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস খুনের ঘটনায় যারা জড়িত, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন জাফরাবাদ-পালপাড়ায় বলরাম পালের বাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে গত বছরের ১২ এপ্রিল যখন নিজের বাড়িতে বলরাম কিছু কাজ করছিলেন, সেই সময় একটি আন্দোলনের নাম করে ১২ জন বলরামের বাড়িতে ঢুকে পড়ে।" তিনি বলেন,"বলরাম তাঁর ছেলে রঞ্জিত পালকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে একটি ঘরে ঢুকে পড়লে ১২ জন তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বলরাম ও রঞ্জিতের গায়ে পেট্রোল ঢেলে তাঁদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়।। হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন বলরাম এবং রঞ্জিত।" বিশেষ সরকারি আইনজীবী বলেন,"এই মামলার রায় দিতে গিয়ে বুধবার জঙ্গিপুর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস ১২ জনকে সাব্যস্ত করেছেন। বিচারক তাঁদেরকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়াও প্রত্যেক অভিযুক্তকে বলরাম পালকে ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।" অঙ্কৃত বলেন,"রাজ্যে বিএনএস চালু হওয়ার পরে এটিই প্রথম মামলা যেখানে কাউকে দাঙ্গা লাগানো এবং পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করার অভিযোগে রাজ্যের কোনও আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনাল।"