• তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে কড়া মুখ্যমন্ত্রী
    আজকাল | ১৩ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে মেজাজে ধরা দিলেন, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার—প্রশাসনিক কাজে তিনি এক চুল জমি ছাড়তেও নারাজ। বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিবকে পাশে বসিয়ে তিনি যেভাবে একের পর এক কড়া দাওয়াই দিলেন, তাতে তিলজলার অগ্নিকাণ্ড থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কিংবা চাষিদের সমস্যা—সবকিছুই উঠে এল তাঁর নজরে। তিলজলার সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডকে কলকাতার জন্য এক 'অশনিসঙ্কেত' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শহরজুড়ে চলা অবৈধ কারখানার দাপট রুখতে সরকার এবার 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে এগোবে।

    তিলজলা থানা এলাকার যে কারখানায় বিধ্বংসী আগুন লেগে দুজনের প্রাণ গিয়েছে, তার তদন্তে গঠিত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়েই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই বহুতলটির কোনও  বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না, অগ্নিসুরক্ষার নূন্যতম ব্যবস্থাও সেখানে মেলেনি। এই চরম গাফিলতির শাস্তিস্বরূপ ইতিমধ্যেই কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুধু গ্রেপ্তারিতেই থেমে থাকেননি; তিনি বিদ্যুৎ দফতর ও সিইএসসি-কে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত অভ্যন্তরীণ অডিট চালিয়ে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর বা একবালপুরের মতো এলাকায় যত অবৈধ কারখানা আছে, সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে। এমনকি পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তিলজলার ওই অবৈধ কাঠামোটি ভেঙে ফেলতে এবং বিপজ্জনক কারখানাগুলোর জলের লাইন কেটে দিতে। যাঁরা এখনও বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে তাঁর সরাসরি হুঁশিয়ারি—হয় শুধরে যান, নয়তো চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।

    প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতেও এদিন বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, বিদায়ী সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের আড়াল করতে সিবিআই তদন্তের চার্জশিটে অনুমোদন আটকে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে না। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তিনটি দপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এদিনই সিবিআই-কে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই সরকার কেবল দুর্নীতির বিনাশ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তা কাজেও করে দেখাবে।

    একই সঙ্গে মানবিক মুখ দেখা গেল আলু চাষিদের প্রসঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, গত সরকারের আমলে কৃষকদের ওপর যে বঞ্চনা ও অত্যাচার হয়েছে, তার অবসান ঘটবে। আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কোনও  কৃষক যাতে নিজের উৎপাদিত ফসল নিয়ে যাওয়ার সময় হেনস্থার শিকার না হন, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। শপথ গ্রহণের দিনেই প্রশাসনিক কড়াকড়ি আর জনহিতকর বার্তার এই মিশেল বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্যের শাসনভার সামলাতে শুভেন্দু অধিকারী এক নতুন ও আপসহীন কর্মপদ্ধতি নিয়ে এগোতে চাইছেন।
  • Link to this news (আজকাল)