জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর বার্তা সামনে রেখে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, নিরাপত্তারক্ষীদের অপ্রয়োজনীয় গাড়ি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের আহ্বানের পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে তাঁর সঙ্গে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কনভয়ে একাধিক গাড়ি থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কনভয়ে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় গাড়ি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে যতটুকু গাড়ি দরকার, ততটাই রাখা হবে।
এ দিন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন নবনির্বাচিত বিধায়ক ও মন্ত্রীও শপথ নেন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের পর বিধানসভার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছি, যেসব গাড়ির প্রয়োজন নেই সেগুলি বাদ দিতে।‘
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিজেপির বিধায়করাও এ দিন গণপরিবহন ব্যবহার করেন। বাসে করেই তাঁরা বিধানসভায় শপথ নিতে পৌঁছন। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের উপর চাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজেও নিজের কনভয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই পথে হেঁটেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার সেই বার্তাকেই সামনে রেখে পদক্ষেপ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।