‘এত লোক খাওয়ালে, আর একটা সোনার চেন দিতে পারলে না?’ বিয়ের চারদিন পরই খুন নববধূ!
প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
বিয়ের চারদিন পরই খুন হতে হল নববধূকে। যার নেপথ্যে নাকি একটি সোনার চেন। পণের বলি হতে বিহারের ২৩ বছরের সঞ্জু কুমারীকে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তবে গ্রেপ্তার শাশুড়ি। সব মিলিয়ে বিহারে আরাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
জানা যাচ্ছে, গত ৭ মে বিয়ে হয় সঞ্জু ও বিনোদ পালের। সঞ্জুর বাড়ি থেকে দেওয়া হয় প্রচুর পণ। ৪ লক্ষ টাকা নগদ, মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, প্রেশার কুকার, আসবাব, বাসনকোসন, সোনা-রুপো কিছুই বাদ যায়নি। দাবি, এরপরও স্রেফ একটা সোনার চেন না পেয়ে বিনোদ চড়াও হয় সঞ্জুর উপরে। সে এবং তার বাড়ির লোকেরা বিয়ের পর থেকেই শুরু করে অকথ্য অত্যাচার। বিনোদ মারধর করতে থাকে। বাকিরা দিতে থাকে গঞ্জনা।
সঞ্জুর দাদা শিবম পাল কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন, ”আমরা সব দিয়েছি। কেবল একটা সোনার চেন…” তিনি জানিয়েছিলেন, সোনার চেনটি চাওয়া হয় বিয়ের দিন। সেদিন তাঁদের পরিবারের তরফে আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবু অপেক্ষা করতে রাজি হল না সঞ্জুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। শিবমের কথায়, ”আমার বোনকে বলা হচ্ছিল, বিয়েতে এত লোককে ডেকে খাওয়ালে, আর একটা সোনার চেন দিতে পারলে না?”
১৩ মে বাপের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল সঞ্জুর। তার ঠিক আগে ১১ মে খুন হন তিনি। শিবমের দাবি, তাঁর বোনকে বাপের বাড়ি ফোন করতে দেওয়া হচ্ছিল না। কোনওমতে হাতে একটা ফোন পেয়ে তিনি দাদাকে ফোন করেন। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ”দাদা, এখানে আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমার এখানে থাকতে একটুও ভালো লাগছে না।” এরপরই তাঁর হাত থেকে ফোন করে নেয় শাশুড়ি। শিবমের উদ্দেশে বলে, ”তোমার বোন জীবন্ত ফিরবে না। এবার ওর লাশই ফিরবে।” এরপরই ফোনের ওপারে একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার শোনা যায়। কেটে যায় ফোন।
দ্রুত সঞ্জুর শ্বশুরবাড়ির এলাকায় হাজির হন শিবম ও তাঁদের পরিবারের অনেকেই। কিন্তু দেখা যায় সঞ্জুর দেহ আগেই দাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক। ঘরে তালা ঝুলছে। অভিযোগ দায়ের হয় পুলিশে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শাশুড়িকে। বাকিরা এখনও পলাতক। চিতাভস্মের ফরেনসিক তদন্ত করা হচ্ছে।