বিধানসভার ঢোকার আগে জুতো খুলে নতজানু হয়ে প্রণাম। এরপর নিজের ঘরে পুজো। তারপর বিধানসভায় শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জেতার পর সংসদ ভবনে ঢোকার আগে একইভাবে প্রণাম করেছিলেন। ঠিক একইভাবে এদিন হাঁটু মুড়ে প্রণাম করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ব্রিগেডে শপথগ্রহণ করেছিলেন। এবার বিধায়ক হিসেবে বুধবার শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বেলা ১১টার কিছু পরে শপথগ্রহণ করেন তিনি। শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। এরপর নিশীথ অধিকারী, অশোক কীর্তনিয়ারা শপথ নেন। আজ বুধবার ও আগামী কাল বৃহস্পতিবার দু’দিন ধরে বিধানসভার ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ বিধানসভা যান মুখ্যমন্ত্রী। আগে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় গেলেন। গোটা বিধানসভা সাজিয়ে তোলা হয়েছে আগেই। লাল কার্পেটে মুড়ে ফেলা হয়েছে সামনের চলাচলের রাস্তা। বিধানসভায় গাড়ি এসে পৌঁছনোর পরই অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে গিয়েছিলেন। তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। আজও বিধানসভায় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হল।
এরপর সংবিধান রচয়িতা বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিধানসভা ঢোকার আগে জুতো খুলে শুভেন্দু অধিকারী হাঁটু গেড়ে বসে সিঁড়িতে প্রণাম করেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে এদিন এক বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই তিনি বিধানসভায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই লড়াই করেছিলেন তিনি। দুটি আসনেই জয়ী হন তিনি। সংবিধান অনুসারে একটি আসন থেকেই তিনি বিধায়ক থাকতে পারেন। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার অর্থ নন্দীগ্রাম আসন তিনি ছেড়ে দেবেন।
তাহলে আগামী দিনে নন্দীগ্রামে ফের ভোট হবে। সেই বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত। যদিও এই ব্যাপারে এখনও কমিশন সূত্রে কিছু জানানো হয়নি। নন্দীগ্রাম আসন থেকে সরে দাঁড়াবেন, সেই ইঙ্গিত কয়েক দিন আগেই তিনি দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর রক্তের টান। যে কোনও অনুষ্ঠানে, বিশেষ বিশেষ দিনে, প্রয়োজনে তিনি সেখানে হাজির হবেন। এই বার্তা নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের আগেই দিয়েছিলেন।