সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের ছোট ছেলে এবং বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদবের স্বামী প্রতীক যাদবের আচমকা মৃত্যুতে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। বুধবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, শরীরের নীচের অংশে তৈরি হওয়া ব্লাড ক্লট বা জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে যাওয়াতেই গুরুতর জটিলতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। তবে এখনও ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। এ দিন সকালে বিষক্রিয়ায় প্রতীকের মৃত্যুর জল্পনা ছড়িয়েছিল।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতীক যাদবের শরীরে তৈরি হওয়া রক্ত জমাট ধীরে ধীরে ফুসফুসের ধমনীতে পৌঁছে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের ভাষায়, এই অবস্থাকে পালমোনারি এম্বোলিজ়ম বলা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর জেরে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তার জেরেই মৃত্যু।
লখনউয়ের চিকিৎসক রুচিতা শর্মা জানিয়েছেন, প্রতীক যাদব দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপ এবং ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর শরীরে পালমোনারি এম্বোলিজম ধরা পড়ে এবং তাঁকে ব্লাড থিনার দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসকদের দাবি, তিনি নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন।
বুধবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মুলায়ম যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র, ৩৮ বছরের প্রতীক যাদব। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত লখনউ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এদিন ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে সপা সুপ্রিমো অখিলেশের সৎ ভাই প্রতীকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য এখনও কাটেনি। ময়নাতদন্তের সময়ে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও দেহরস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই ভিসেরা রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এর মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির নেতা রবিদাস মেহরোত্রা বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতীক যাদবের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অনেকে দাবি করছেন। এমনকী বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এই দাবির কোনও স্বীকৃতি মেলেনি।